Purba Bardhaman | ‘বিজেপি সমর্থক’ প্রৌঢ়ের নাম ভারত-বাংলাদেশের ভোটার তালিকায়! তৃণমূলের দাবিতে শোরগোল

Purba Bardhaman | ‘বিজেপি সমর্থক’ প্রৌঢ়ের নাম ভারত-বাংলাদেশের ভোটার তালিকায়! তৃণমূলের দাবিতে শোরগোল

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


বর্ধমান: মঙ্গলবারই রাজ্যে প্রকাশিত হয়েছে এসআইআরের খসড়া ভোটার তালিকা। এই আবহেই এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের ভোটার হওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। তৃণমূলের (TMC) দাবি ওই ব্যক্তি বিজেপি সমর্থক (BJP)। এই ঘটনায় রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে (Purba Bardhaman)। এদিকে, পালটা কালনার হাটকালনা ও পূর্বস্থলীর মেড়তাল পঞ্চায়েতের প্রধানকে ভুয়ো ভারতীয় নাগরিক দাবি করে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে পদ্মশিবির।

জানা গিয়েছে, মেমারির দলুইবাজার-২ নম্বর পঞ্চায়েতের অধীনে নীলকুঠি গ্রামের বাসিন্দা ননীগোপাল মণ্ডলের নাম ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের ভোটার তালিকাতে রয়েছে। ভারতের ভোটার হয়েও বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় ননীগোপালের নাম নথিভুক্ত থাকা নিয়ে সোমবার মেমারি-১ ব্লকের বিডিও অফিসে অভিযোগ জানিয়েছেন এলাকারই এক বাসিন্দা বিমল মণ্ডল। অভিযোগপত্রের সঙ্গে ওই ব্যক্তির বাংলাদেশের ভোটার হওয়া সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যও বিডিওর কাছে দাখিল করেছেন তিনি।

তাতে দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার তালিকার রয়েছে ননীগোপাল মণ্ডলের নাম। শুধু তাই নয়, তিনি যে বাংলাদেশের গোপালপুর গ্রামের সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন তাও উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারী এও জানিয়েছেন, ভারতের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ননীগোপালের নাম না থাকলেও ২০২৫ সালের তালিকায় রয়েছে। অভিযোগপত্রে এও উল্লেখ করা হয়েছে, ননীগোপালের তিন ছেলে ভারতে সরকারি চাকরি করেন। দুই দেশের নাগরিক হয়ে থাকা ব্যক্তির ছেলেরা কীভাবে ভারতে সরকারি চাকরি পেলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিমল। এনিয়ে ননীগোপাল মণ্ডলের এক ছেলে স্বীকার করেছেন, তাঁর বাবা একসময় বাংলাদেশের ভোটার ছিলেন।

এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ সত্য বলে জানিয়েছেন দলুইবাজার-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান ধীমান বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘অবৈধ ভোটার নিয়ে মেমারিতে হইচই ফেলে রাখা বিজেপি নেতারাও এব্যাপারে সব জানেন। কিন্তু ননীগোপাল মণ্ডল ও তাঁর পরিবার যেহেতু বিজেপি সমর্থক তাই মুখে কুলুপ এঁটেছেন।’ তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এরপর সংশোধিত ভোটার তালিকাতে যদি ননীগোপাল মণ্ডলের নাম থাকে তাহলে বৃহত্তর আন্দোলন শুরু হবে। এনিয়ে এলাকার বিডিও শতরুপা দাস জানান, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে।

অন্যদিকে, এসবের মাঝেই বিজেপি নেতৃত্ব আবার তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত জেলার দু’টি পঞ্চায়েতের প্রধানের ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এরা হলেন কালনা মহকুমার হাটকালনা পঞ্চায়েতের প্রধান শ্রাবন্তী মণ্ডল এবং পূর্বস্থলীর মেড়তাল পঞ্চায়েতের প্রধান সন্তোষী দাস।

বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রী স্মৃতিকণা বসুর অভিযোগ, ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে এক দম্পতিকে নিজের পিতামাতা দেখিয়ে শ্রাবন্তী মণ্ডল প্রথম ভারতের ভোটার তালিকায় নাম তোলেন। তারপর তিনি ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ও জাতিগত শংসাপত্র বানিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান হন। সন্তোষী দাসের বিরুদ্ধেও একইরকম অভিযোগ তোলা হয়েছে। এনিয়ে কালনার মহকুমা শাসক সহ প্রশাসনের নানা মহলে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

যদিও বিজেপির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রাবন্তী মণ্ডল ও সন্তোষী দাস। এসব বিজেপির মিথ্যাচার বলে দাবি করেছেন তাঁরা। কালনার মহকুমা শাসক অহিংসা জৈন এপ্রসঙ্গে জানান, যে অভিযোগ জমা পড়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *