উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: পঞ্জাবের পুরসভা নির্বাচনে (Punjab civic polls outcomes) একচেটিয়া দাপট দেখাল আম আদমি পার্টি (আপ) (AAP)। রাজ্যের মোট ১,৯৭৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৯৫৭টিতে জয়লাভ করে একক শক্তিতে শীর্ষে উঠে এল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল। কংগ্রেস ৩৯৭টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও আপের তুলনায় তারা অনেকটাই পিছিয়ে। পঞ্চম স্থানে শেষ করে কার্যত অস্তিত্ব সংকটে বিজেপি। এই জয়কে ‘ঘৃণার রাজনীতির পরাজয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান।
শুক্রবার নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর রাজ্যজুড়ে আপ শিবিরে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। পঞ্জাব স্টেট ইলেকশন কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, মোট ১,৯৭৭টি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ হয়েছিল, যেখানে জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে নির্দলরা ২৫১টি এবং শিরোমণি অকালি দল (এসএডি) ১৯১টি আসনে জয়ী হয়েছে। বিজেপি পেয়েছে মাত্র ১৬৭টি আসন, যা তাদের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। বিএসপি জিতেছে ৭টি আসনে। গত ২৬ মে রাজ্যের আটটি পুরনিগম, ৭৫টি পুর পরিষদ এবং ১৯টি নগর পঞ্চায়েতের মোট ১৮৯৭টি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ হয়েছিল, এছাড়া ৮০টি ওয়ার্ডে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন।
এই জয়ের পরেই বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, “পাঞ্জাবে ইডি-কে (ED) হাতিয়ার করে ছোট ব্যবসায়ীদের হেনস্তা করার বদলা নিয়েছে মানুষ। ইডি পার্টি আজ পঞ্জাব থেকে কার্যত মুছে গিয়েছে।”
পঞ্জাবের রাজনৈতিক মানচিত্রে এই ফলাফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে বিজেপি গড় বলে পরিচিত পাঠানকোটের ৫০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৩টিতে জয়লাভ করে আপ চমক দিয়েছে, সেখানে বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে মাত্র ৮টি আসন। আবার মোহালি পুরনিগমেও ৫০টির মধ্যে ২০টির বেশি আসন জিতে আপ কার্যত তাদের একাধিপত্য কায়েম করেছে। সঙ্গরুর জেলার চারটি পুরসভাতেও আপের জয় ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলাফল পঞ্জাবের রাজনৈতিক সমীকরণে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে যখন আপের এই জয় তাদের কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে, অন্যদিকে কংগ্রেস ও বিজেপির এই ভরাডুবি আগামীদিনে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দেবে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
