উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ক্যাম্পাসে একটি অপ্রীতিকর ঘটনার জেরে তৈরি হওয়া ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভের (Pupil Protest) জেরে ১০ দিনের জন্য পঠনপাঠন স্থগিত রাখার ঘোষণা করল পঞ্জাবের (Punjab) একটি বিশ্ববিদ্যালয়। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তাদের সমস্ত মিড-টার্ম পরীক্ষাও স্থগিত রাখা হয়েছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে পাঠানো ওই বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত সোমবার অর্থাৎ ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ১০ দিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত নিয়মিত ক্লাস বন্ধ থাকবে। পরবর্তীতে মিড-টার্ম পরীক্ষাগুলির একটি সংশোধিত সময়সূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা ইউএমএস-এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। এই দশ দিনের ছুটির সময় পড়ুয়ারা অভিভাবকদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিজের নিজের বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন বলেও অনুমতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে যে সমস্ত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বা হোস্টেলেই থেকে যাবেন, তাঁদের সুরক্ষার স্বার্থে অযথা বাইরে ঘোরাফেরা না করে হস্টেল বা বাসস্থানের ভেতরেই থাকার কড়া পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এই সার্বিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পঞ্জাবেরই চিত্রকার ইউনিভার্সিটি আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়কালকে অ-শিক্ষাদানের কার্যদিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রশাসনিক কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ফ্যাকাল্টি ও স্টাফ মেম্বারদের জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা শিক্ষার্থীদের জাতীয় সড়ক অবরোধের অবসান ঘটেছে। পঞ্জাবের ফাগওয়ারায় ন্যাশনাল হাইওয়ে-৪৪-এর ওপর যে যানজট তৈরি হয়েছিল, তা সোমবারের মধ্যে স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। জলন্ধরের পুলিশ কমিশনার সতিন্দর সিং জানিয়েছেন, রবিবার ও সোমবারের মধ্যবর্তী রাতেই জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে। তবে সম্ভাব্য যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে সোমবার সকালেও ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ওই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ সংক্রান্ত কিছু পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরই তীব্র আন্দোলন শুরু করেন পড়ুয়ারা। দাবি, কারও শাস্তি হবে না ভেবে নিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছেন নির্যাতিতা ওই ছাত্রী। এর পর ক্যাম্পাসে গিয়ে পড়ুয়াদের একাংশ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। যদিও পুলিশের (Police) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এই সমস্ত দাবির সত্যতা এখনও যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার আসল সত্যতা উদঘাটনে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ আধিকারিকরা। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের নির্দিষ্ট কোনো পরিচয় সামনে আসেনি। অজ্ঞাতপরিচয় বেশ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একটি এফআইআর রুজু করা হয়েছে এবং সমগ্র ঘটনাটির গভীরে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

