উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নিউটাউনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের মামলায় সিআইডির ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta Excessive Courtroom)। খুনে অভিযুক্ত তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মন (Prashanta Barman Case) একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিয়মিত বেতন নিলেও সিআইডি কেন তাঁর খোঁজ পাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউটাউন থানার যাত্রাগাছির খালধার থেকে সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এই খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম জড়ায় তৎকালীন রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের (Prashanta Barman)। বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন পাওয়ার পর কলকাতা হাইকোর্ট ও পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের তরফেও তাঁকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে প্রশান্ত আত্মসমর্পণ করেননি এবং পুলিশও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এদিকে গত ২৫ মে রাতে নিউটাউনের ইকো পার্ক থানা এলাকায় পথসুরক্ষা বিধি ভেঙে এক পথচারীকে ধাক্কা মারায় পুলিশ তাকে ফের ধরে। পরদিন তাকে বারাসত আদালতে হাজির করা হলেও নথি না পৌঁছানোয় ম্যাজিস্ট্রেট জামিন দেন। এরপর থেকেই তিনি ফের বেপাত্তা।
বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের শুনানিতে বিচারপতির ভর্ৎসনার মুখে পড়ে সিআইডি ও রাজ্য। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী প্রশ্ন তোলেন, “একজন সরকারি কর্মচারী বেপাত্তা, অথচ সরকারি কোষাগার থেকে মাইনে নিচ্ছেন! প্রশান্তর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকা সত্ত্বেও সিআইডি বলছে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না—এই দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য?” অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেলকে অভিযুক্তকে খোঁজার কড়া নির্দেশ দিয়ে বিচারপতি জানান, তিনি দেশ থেকে গায়েব হয়ে যাননি। সিআইডির তরফে জানানো হয়েছে, প্রশান্তের বিরুদ্ধে দেওয়া চার্জশিটে কিছু গাফিলতি ছিল। এরপর আদালত রাজ্যকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। জুলাই মাসে এই খুনের তদন্তভার সিআইডির হাতে গেলেও অধরা থেকে যাওয়া প্রশান্ত বর্মনের ভূমিকা ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে বর্তমানে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

