সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি: কেউ বলছেন নজিরবিহীন, কারও মতে ‘ম্যান মেড’। বাস্তবে উত্তরবঙ্গের আলু চাষ (Potato Chilly Storage Disaster) ও আলুকেন্দ্রিক বার্ষিক দেড় হাজার কোটি টাকার কারবার আজ বিপর্যয়ের মুখে। মজুতদার, ফড়ে থেকে কৃষকরা লোকসানের বহর কমাতেও ব্যর্থ হচ্ছেন। বিমার টাকা জুটলেও তাতে লোকসান সামান্যও কমেনি। হিমঘরগুলিতে মজুত ৭০ শতাংশ আলু এবং খোলা বাজারে দামে ধসই সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত মরশুমে উত্তরবঙ্গের ৮০টির বেশি হিমঘরে ৩ কোটি ২৫ লাখ প্যাকেটের কিছু বেশি আলু মজুত হয়। জুলাই পর্যন্ত মাত্র ১৮ শতাংশ আলু বেরিয়েছে। অগাস্টেও সেই সংখ্যা সর্বাধিক ৩০ শতাংশ হতে পারে বলে হিমঘর ব্যবসায়ীদের মত। ফলে আগামী নভেম্বরের শেষে সরকারি নিকাশির (হিমঘর থেকে মজুত আলু বের করার পদ্ধতি) অন্তিম দিনেও বিপুল আলু হিমঘরে অবশিষ্ট থাকার আশঙ্কা বাড়ছে। রাজ্য হিমঘর মালিক সমিতির উত্তরবঙ্গ আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদক মনোজ সাহার কথায়, ‘সামান্য অগ্রিমে আলু লোড হয় এবং নিকাশির সময় বাকি ভাড়া মেলে। আলু মজুত থাকলে বকেয়া মিলবে না। সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিল, ঋণের কিস্তি ও বেতন মিটিয়ে বিপুল লোকসানে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে হিমঘরশিল্প।
আলুর বাজারে এই বিপর্যয়ের মূলে তলানিতে ঠেকে যাওয়া চাহিদা এবং পড়ে যাওয়া দামকেই মূলত দায়ী করছেন সকলে। গত মরশুমে ৫.৫০-৬.৫০ টাকা কেজি দরে আলু লোড হয়েছিল। ভাড়া, বস্তা, পরিবহণ ও শ্রমিক মিলিয়ে কেজিপ্রতি আরও ৩.৫০ টাকা খরচ হয়েছে মজুতদার-কৃষকদের। এখন আলুর বন্ড বিক্রি হচ্ছে ১.৫০-২ টাকা দরে। পরিবহণ ও বাছাইয়ের পর খোলা বাজারে দাম মিলছে ৫-৫.৫০ টাকা প্রতি কেজি। ফলে কেজিতে ৪-৫ টাকা বা এক গাড়িতে ৪০-৫০ হাজার টাকা লোকসানের ভয়ে বকেয়া ভাড়া মিটিয়ে হিমঘর থেকে কেউ আলু বের করছেন না। ‘নজিরবিহীন বিপর্যয়’ উল্লেখ করে উত্তরবঙ্গ আলু ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবলু চৌধুরী বলেন, ‘আড়াই দশকের অভিজ্ঞতায় বলছি, আলুর ব্যবসা এমন বিপদে পড়েনি। বিগত সরকারের ভ্রান্ত নীতি, খামখেয়ালি ও রপ্তানি আটকে আলুর ব্যবসাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলা হয়েছে।’
জানা গিয়েছে, অসম সহ গোটা উত্তর-পূর্বের আলুর বাজার এখন উত্তরপ্রদেশের দখলে। বিগত সরকার ভিনরাজ্যে আলু পাঠানো বন্ধ করার সুযোগেই তারা এই বাজার ধরেছে। এই অবস্থায় সারা ভারত কৃষকসভার জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক প্রাণগোপাল ভাওয়াল বলেন, ‘আগের সরকারের পথে না হেঁটে বর্তমান সরকারের উচিত দ্রুত আলু নিয়ে সদর্থক পদক্ষেপ করে ভিনরাজ্যে পাঠানো সুনিশ্চিত করা এবং কৃষিঋণ মকুব করে কৃষকদের চরম বিপদ থেকে রক্ষা করা।’

