‘এই ম্যাচিওরিটি তখন থাকলে আলাদা হতাম না,’ দেবের কথা শুনেই শুভশ্রী…

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


দীর্ঘ বারো বছরের ব্যবধান থাকলেও দেব-শুভশ্রী জুটির জনপ্রিয়তা এতটুকু ফিকে হয়নি। পঁচিশ সালে ‘ধূমকেতু’ মুক্তির পর সেটা আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। দর্শকের ভালোবাসাকে সম্মান জানাতে, ইন্ডাস্ট্রির উন্নতির স্বার্থে আরও একবার দেব-শুভশ্রী জুটিকে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন মেগাস্টার দেব। সেখান থেকেই ‘দেশু ৭’র ভাবনা। এই জুটির সপ্তম সিনেমা ঘোষণার দিন থেকেই ভক্তদের উন্মাদনা যেন আকাশ ছুঁয়েছে! পয়লা দিন থেকেই চমকে মোড়া ‘দেশু ৭’। সোমবার ‘দেশু’র লাইভ ঘিরেও অনুরাগীমহলে উত্তেজনার কথা আলাদা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পাশাপাশি বসে লাইভে দেব-শুভশ্রী। দুজনের কথোপকথনের মাঝে উঠে এল ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমীকরণও।

হাতে গুনে দু’শো চব্বিশ দিন পর ফের একসঙ্গে লাইভে দেব-শুভশ্রী। জানুয়ারি মাসে প্রথমবার লাইভে এসে ‘দেশু’র ঘোষণা করেছিলেন। ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’র সেই ফেমাস গান ‘স্বপ্ননীল’ জুটিকে আবার পর্দায় দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে দেব-শুভশ্রী জুটির অনুরাগীরা। দর্শকের ভালোবাসার জন্যই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। লাইভে এসে আরও একবার নিজের মুখে জানালেন সুপারস্টার দেব। এই জুটির প্রতি দর্শকের ভালোবাসা ভগবান প্রদত্ত বলে মনে করেন। বহুবছর পর যখন ‘ধূমকেতু’কে যখন দর্শক সাদরে গ্রহণ করেছিল তখনই দেবের মনে হয়েছিল দেব-শুভশ্রী থাকলেই ছবি হিট। তাই শূন্য হাতেই শুভশ্রীকে ফোন করেছিলেন। কথার ভাঁজে জানা গেল শুভশ্রীর বিয়ের দিনও দুজনের কথা হয়েছিল। 

আরও পড়ুন:

সেদিনের পর থেকে সিনেমা ছাড়া আর কিছু ভাবেননি। এমনকী সোমবার লাইভের জন্য এতটাই উত্তেজিত ছিলেন যে রবিবারও বিনিদ্ররজনী যাপন করেছেন। দেবের পাশে বসে শুভশ্রীও তাঁর কাজের প্রতি একগ্রতাকে বারবার সাধুবাদ জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে এটাও বলেছেন, দেবের সিনেমা সংক্রান্ত প্রায় সব খবরই রাখতেন। মন থেকে চাইতেন দেব যেন পরিচালকের আসনে বসেন কিন্তু, সেটা কখনও বলে ওঠা হয়নি। এই কথা শুনেই দেবের রসিকতা, “তুমি আমার খবর রাখতে?” শুভশ্রীর পালটা জবাব, “খবর তো সবাই রাখে…।” এরপরই যেন কিছুটা সাবধানী দেব। তাঁর মতে, পরস্পরের প্রতি আজও শ্রদ্ধা রয়েছে। সামনাসামনি দেখা হলে সৌজন্যটুকু দুজনেই দেখান। কিন্তু, সোশাল মিডিয়ায় সেটা নিয়ে কার্যত পোস্টমর্টেম করা হয়।

অভিনয়, পরিচালনা, প্রযোজনার পাশাপাশি মিউজিকের ক্ষেত্রেও দেবের যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে। ‘দেশু ৭’-এর লাইভে এসে এভাবেই দেবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ শুভশ্রী। উঠে এসেছে বাজেট প্রসঙ্গও। লাদাখে শুটিংয়ের ইচ্ছে থাকলেও বাজেটের কারণে ব্যংককে শুটিংয়ের কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু, দেবের মনে হয়েছিল তিনি দর্শককে ঠাকাবেন না। তাই শেষ পর্যন্ত লাদাখেই শুটিং করেছেন। শুভশ্রীও দেবের কথায় সম্মতি জানান। শুটিংয়ের প্রসঙ্গে উঠতেই স্বাভাবিকভাবে ‘দেশু’ ভক্তদের মনে প্রশ্ন জেগেছে বারো বছর পর রোম্যান্টিক দৃশ্যে শট দিতে দুপক্ষই স্বস্তিবোধ করেছেন? আর ঠিক সেই কারণেই লাইভের সঞ্চালক অরিত্র দত্ত বণিক দেব-শুভশ্রীর জন্য ব়্যাপিড ফায়ার রাউন্ডের আয়োজন করেছিলেন।

সেখানেই এই প্রশ্নের উত্তরে একশো শততার সঙ্গে ‘দেশু’ জানিয়েছেন তাঁরা দুজনেই প্রথমে একটু অস্বস্তিবোধ করেছিলেন। কিন্তু, সময়ের সঙ্গে দুজনেই পেশাদার শিল্পীর মতো আচরণ করেছেন। শুভশ্রী নিজেকে পরিস্থিতির সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিলেও দেব নিজের কিছু অস্বস্তির কথা স্বীকার করেন। তাঁর মনে হয়েছিল, যে দৃশ্যগুলোর উল্লেখ চিত্রনাট্যে ছিল না সেগুলো যদি শুভশ্রীকে বলেন তাহলে বিষয়টা কেমন হবে। শুভশ্রীও জানান, শুটিংয়ের আগে কোনও ওয়ার্কশপ হয়নি। আর তিনি বাকি পরিচালকদের ক্ষেত্রে যেমন ‘ডিরেক্টরস অ্যাক্টর’, দেবের ক্ষেত্রেও সেটাই ছিলেন।

পরবর্তী প্রশ্ন, বারো বছর পর একে অপরের মধ্যে কী কী পরিবর্তন লক্ষ্য করলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে কার্যত বোমা ফাটালেন দেব। শুভশ্রী এখন অনেক পরিণত। যে কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতি সুন্দরভাবে সামলানোর ক্ষমতা রয়েছে। তারপরই বলে ফেলেন, “এই ম্যাচিওরিটিটা তখন থাকলে আলাদা হতাম না। তখন দুজনেই ইনোসেন্ট ছিলাম।” ‘প্রাক্তন’-এর কথা শুনেই দেবের দিকে তাকান শুভশ্রী। নিজেকে কোনওক্রমে সামলে দেব শুভশ্রীকে জিজ্ঞেস করেন, “আবার কেস খেলে?” একগাল হেসে হালকা মেজাজে সুন্দর সামলে নিলেন শুভশ্রী, তা বলাই বাহুল্য়।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *