শুভাশিস বসাক, ধূপগুড়ি: চলতি বছরও উৎপাদিত আলুর (Potato) বড় অংশ রপ্তানি হবে ভিনরাজ্যে। লরির সঙ্গে রেলের ওয়াগন লোড করেও অসম, শিলচর, তেজপুরের মতো জায়গায় আলু রপ্তানি হবে। চলতি মাসেই ওয়াগন লোডের পরিকল্পনা আলু ব্যবসায়ীদের। ২১ বগির কমপক্ষে ৩০-৩৫টি মালবাহী ট্রেন যাবে বাইরে বলে দাবি। সরকারি বিধিনিষেধ নেই। ফলে ভিনরাজ্যে আলু যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে বাড়বে আলুর দাম।
আলু রপ্তানিতে এবার এখনও সরকারি বিধিনিষেধ জারি হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri), আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) এবং কোচবিহার (Cooch Behar) জেলার উৎপাদিত আলু ভিনরাজ্যে রপ্তানি করতে বিশেষ কোনও বাধা নেই। আর তাতেই উৎপাদিত আলুর বড় অংশই ভিনরাজ্যে পাড়ি দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীরা কৃষকদের থেকে আলু কেনার প্রক্রিয়াও যেমন শুরু করেছে, তেমনি চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে আলু রেলের ‘ওয়াগন লোড’ করে ভিনরাজ্যে পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। উত্তরবঙ্গ আলু ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবলু চৌধূরী বলেন, ‘আর অল্পদিনের মধ্যেই রেলের ওয়াগন লোড করা শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে আমাদের অনুমান ২১টি ওয়াগনের ক্ষমতাসম্পন্ন কমপক্ষে ৩০-৩৫টি মালবাহী ট্রেন ভিনরাজ্যে পাড়ি দেবে।’ অন্যান্যবারের মতো ধূপগুড়ি, শালবাড়ি ও ফালাকাটা থেকে রেক লোডের পরিকল্পনা রয়েছে ব্যবসায়ীদের। ভিনরাজ্যে আলু পাঠানো নিয়ে এবার বিধিনিষেধ নেই। স্বাভাবিকভাবেই প্রচুর পরিমাণ আলু ভিনরাজ্যে যাবে এবং স্থানীয় বাজারেও আলুর দাম বাড়তে পারে। এতে কৃষকরাও অতিরিক্তভাবে কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারবে৷ তবে শুধু রেলের ‘ওয়াগন লোড’ নয়, সড়কপথে লরিতেও আলু ভিনরাজ্যে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
রেল সূত্রে খবর, গত বছর ২৮টি মালবাহী (২১ বগি সম্পন্ন) ট্রেনে আলু ভিনরাজ্যে পাঠানো হয়েছে। তবে এবার সংখ্যাটা আরও বাড়বে বলে মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ। মূলত উৎপাদনের নিরিখে রেল কর্তৃপক্ষও রপ্তানির বিষয়ে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে। ধূপগুড়ির স্টেশন ম্যানেজার মনোজ সিং বলেন, ‘একদিন আগে অনলাইনে রেক বুক করলে পরের দিনই ওয়াগন দিয়ে দেওয়া সম্ভব। রেল কর্তৃপক্ষও সবসময়ের জন্যে প্রস্তুত রয়েছে।’
আলু ব্যবসায়ী সঞ্জয় ভাওয়ালের কথায়, ‘জ্যোতি আলু উঠতে একটু সময় রয়েছে। তবে জ্যোতি এবং পোখরাজ দুই জাতের আলুর দামই ক্রমশ বাড়ছে। ভিনরাজ্যে আলু রপ্তানির সম্ভাবনাও প্রবল। শুধু উত্তর-পূর্ব ভারত নয়, বিহারেরও চাহিদা রয়েছে। রেলের ওয়াগন এবং লরিতেও আলুবোঝাই করে রপ্তানি করা হবে।’ ব্যবসায়ীদের দাবি, স্থানীয় বাজারেও আলুর দাম বাড়বে এবং ভিনরাজ্যে পাঠানোতে কোনও বিধিনিষেধ এখনও নেই। তাই আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিকই রয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলা কৃষি বিপণন দপ্তরের সহ কৃষি অধিকর্তা (মার্কেটিং) দেবাঞ্জন পালিত বলেন, ‘এখন বাজারে পোখরাজই রয়েছে। জ্যোতি আলু উঠতে সময় লাগবে। তবে সরকার চাইছে কৃষকরা যেন দাম পান, কারণ এখনও কৃষকের ঘরেই আলু রয়েছে।’
