নিঃস্ব
পাপড়ি গুহ নিয়োগী
মাথা চুরি গেছে বহুদিন
এবং শিরদাঁড়া মার্কেটে চড়া সুদে
এদের
খুচরো কিছু চরিত্র নিয়ে দৌড়
ইদানীং জিহ্বার নীচে রং নিয়ে
প্রতিবেশীর টালি খাতায় যুদ্ধ আঁকে
ভাগ্যিস
এটি একটি কাল্পনিক চরিত্র
নেই আমার জন্মস্থান
চন্দ্রসিংহ মণ্ডল
মাটি কামড়ে পড়েছিল-
হুমকি-কিল-ঘুসি কিছুই বাদ নেই,
মাছে-জলে সমান পুকুর;
জমির কানায় কানায় পূর্ণ আমন ক্ষেত;
মাটির চিলেকোঠা জুড়ে ভরা সংসার;
একাত্তর সায়াহ্নে সব মায়ারা রক্তাক্ত…
ঠাকুরদার কোলে বাবা মৃত্যু পথ ধরে দেশান্তর।
চারিপাশে আতঙ্ক প্রাচীর বেষ্টিত আমি
এবেলা-ওবেলা ধমকবাজের ধমকানি-
কেউ কেউ স্বদেশ প্রেমের ঘনত্ব মাপ নেয়,
খুপরি দেওয়ালে মায়ের প্রসব চিহ্ন বুকে জড়িয়ে
চোখ বন্ধ করে নিঃশব্দে ভগবানের নাম নিই,
আঁতুড়ঘর ছিনিয়ে নিতে এগিয়ে আসছে কয়েকটি মুখোশ
আপন মৃত্যুর দাগও রেখে যেতে চাই এই আঁতুড়ঘরে।
আমাদের তেইশটি বছর…
অসীমকুমার দাস
আজও ভোর হয়, আজও সূর্য ওঠে
আজও বাড়ির পাশে রাস্তায় পায়রা আসে
আর যে চেয়ারটায় বসতে সেটা আজও
তোমারই জন্য তীব্রভাবে অপেক্ষা করে–
সমস্ত কাজ সেরে আমি যখন ঘরে ফিরি
এক সমুদ্র শূন্যতা ছেঁকে ধরে আমায়
বাড়ির পাশের মান্দার গাছটায় আজও ফুল ফোটে
আমাকে অভিবাদন জানায়
তোমাকেও নিশ্চয় জানাত হয়তো খেয়াল করোনি!
যে পৃথিবীতে দুজনে বাস করতাম
যে প্রেমে পায়রার মতো আবদ্ধ ছিলাম
সেইসব গল্পগাথা আজ সব স্মৃতি
বন্ধুরা আজও আসে, কথা হয়, চলেও যায়
আমি তো এই গৃহ ছেড়ে চলে যেতে পারি না
এই জানালা-দরজা, এই হেঁশেল-শয়নকক্ষ
এই সিঁড়ি– এদের গাঢ় স্পর্শ আদরের ডাক
আমাদের তেইশটি বছর…
সমুদ্রতটে একদম একা ভাঙা নৌকোর মতো
যাত্রীহীন যাত্রাহীন এই সূর্যময় দিনগুলিতে
কী নিয়ে রোজ আমি একা একা সূর্যোদয় দেখব!
প্রেম ও কাকতাড়ুয়া
মৃড়নাথ চক্রবর্তী
হেমন্তের শুষ্ক নীল আকাশের নীচে
নবান্নের প্রস্তুতি শেষে দুই কাকতাড়ুয়া
ইতিপূর্বে মালিকপক্ষের সমস্ত বিবাদ
আর শস্য বণ্টন চুক্তিকে উপেক্ষা করে
কালিমাখা হাঁড়িমুখে স্থির চুম্বনরত
যেন পূর্ব গঙ্গ যুগের কোনো শিল্পী
তার হাতুড়ি বাটালি ছেড়ে উত্তরাধুনিক সরঞ্জামে
মৃত পৃথিবীর ওপর প্রাণ খোদাই করে যায়।
চলাচল
মণিদীপা বিশ্বাস কীর্তনিয়া
অনেক পথের নাম মিশে আছে খড়কুটো
অনেক পথের শেষে ভিজে যায় বৃষ্টি আলাপ
উড়ানে উড়ানে দূর সে পথের রেখা টেনে টেনে
পাগল একাকী হাসে সবকিছু ধুলো হবে জেনে
গল্পের দিকচিহ্ন হারিয়েছে রাস্তা নিজেই
যেমন ঢেউয়ের নীচে মিশে যায় জলের শরীর
পাগলের বুকে নামে কবেকার বৃষ্টি-বাদল
অন্ধকার বাঁক নিলে ডুবে যায় নদীরও আদল
ভাসমান পথ শুধু প্রথম ধ্বনির মতো জাগে
অচেনা জন্মকাল হেঁটে যায় যে ধ্বনির আগে
সন্ধের পাশে পাশে ধাবমান পায়ের পাতায়
মৃদু বোল পুড়ে ছাই, ছাই থেকে সে এসেছে জল
পাগল চলেছে একা…ধ্বনি জুড়ে তার চলাচল…
রূপান্তর
অজন্তা রায় আচার্য
সর্পে দংশন করেছিল সময়কে, রক্তাক্ত
তাকে চিতায় তুলে দিলাম, ঝুলে পড়ল সময়ের শরীর
আগুনে গলে গলে পড়ছে মাখনের মতো…
ধীরে ধীরে সে এক বিলুপ্ত প্রাণী হয়ে গেল
এইভাবে সময়কে আমি বাঁধন মুক্ত করেছিলাম,
সব বাঁধন-ই আলোর মতো ক্ষণিক
তারপর…শুনলাম ধ্বনি
সময় নিজেই আমার ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছে
পুরোনো নদীর মতো
পাথরের নীচে বয়ে চলেছে ক্ষীণ সুরে
যাকে মুক্তি ভেবেছিলাম- সে রূপান্তর মাত্র।
জাদুবাস্তব
তন্ময় দেব
বুকের ভেতর লালন করি ধূমকেতু, অথবা
আঁধারের শামিয়ানা। মাঠ ভরা মানুষ আর
ঘর ভরা গাছে ছেয়ে আছে নক্ষত্রমহল।
তুমি আছ জেনেও বিলি করি লিফলেট।
এমন দুঃস্বপ্ন দেখে গভীর রাতে তেষ্টা পায়।
পান করি হিমবাহ। হৃদয়গর্ভে বাড়ে নদ ও নদী।
তুমি খবর রাখো সবই। তবে কীসের আড়াল?
দ্বিধা ও দ্বন্দ্ব?
লিফলেটে চোখ রাখো। ঘোষণা করে কেউ নিরুদ্দেশ
হয় না জেনেও মানুষ আজীবন খুঁজে বেড়ায় প্রেম।
The put up কবিতা appeared first on Uttarbanga Sambad.
