হরিশ্চন্দ্রপুর: দ্বিতল ভবনের দেওয়াল ভেঙে ঢুকে পড়ল অ্যাম্বুল্যান্স! গুরুতর আহত হলেন চালক। বৃহস্পতিবার ভোররাতে দুর্ঘটনাটি (Accident) ঘটে মালদার (Malda) চাঁচল-হরিশ্চন্দ্রপুর ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের রাড়িয়াল এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন অ্যাম্বুল্যান্সটি চাঁচল থেকে হরিশ্চন্দ্রপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি দোতালা বাড়িতে ধাক্কা মারে গাড়িটি। সংঘর্ষে বাড়ির দেওয়ালের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। অ্যাম্বুল্যান্সটি বাড়ির ভেতরে ঢুকে যায়। দুর্ঘটনার বিকট শব্দে স্থানীয়রা এলাকায় ছুটে আসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় চালককে উদ্ধার করে চাঁচল মহাকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাড়িয়াল–বাগমারা এলাকায় ওই বাড়িটি বহুদিন ধরেই জাতীয় সড়কের একেবারে ধার ঘেঁষে রয়েছে। এর জেরে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কেন এখনো ভাঙা হচ্ছে না ওই বিপজ্জনক বাড়িটি? প্রশ্ন এলাকাবাসীর। এই বাড়ির জন্য এলাকায় ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের কাজ অসমাপ্ত হয়ে পড়ে রয়েছে।
ওই ভবনের মালিক আরব আলি বলেন, ‘দীর্ঘ আট বছর ধরে বিল্ডিংটি জাতীয় সড়কের উপরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ পরে জমিটি অধিগ্রহণ করেছে। তবে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ একাধিকবার মাপজোক করে গেলেও ভাঙার উদ্যোগ নেই। মাঝেমধ্যেই সেটিতে ধাক্কা মারছে যানবাহন। বিল্ডিংটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। আমি বিল্ডিং ও জমির কোনো মূল্য পাইনি।’
জাতীয় সড়কের মালদা ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দিগন্ত কুন্ডু বলেন, জমি অধিগ্রহণ করার সময় কিছু জমি বাদ পড়ে যায়। তাছাড়া এই অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ব্যাপারটি রাজ্যের ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন ডিপার্টমেন্টের অধীন। জাতীয় সড়কের তরফ থেকে কেন্দ্রে মিনিস্ট্রি অফ রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড হাইওয়েতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শীঘ্রই জমির মালিক টাকা পেয়ে যাবেন। বিল্ডিংটি ভাঙার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে যাবে।
