উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) মৌলিক অধিকার, সস্তা খাদ্য ও উন্নত শিক্ষার দাবিতে চলা আন্দোলন দমন করতে চরম নৃশংসতার পথ বেছে নিল পাকিস্তান সরকার। রাওয়ালকোটে সাধারণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ড্রোন হামলা, গুলিবর্ষণ ও লাঠিচার্জ করেছে পাক রেঞ্জার্স, ফ্রন্টিয়ার কর্পস (FC) এবং স্থানীয় পুলিশ। এই রক্তাক্ত হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ২৪ জন।
সূত্রের খবর, সকালের নামাজের পরপরই বিক্ষোভকারীদের প্রধান জমায়েতস্থল লক্ষ করে গুলি চালাতে শুরু করে পাক বাহিনী। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সামরিক ড্রোন ব্যবহারের মতো চরম পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহার, এলোপাথাড়ি গুলি এবং লাঠিচার্জ করেও আন্দোলন থামানো না যাওয়ায় পাক বাহিনী এবার সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ঘরবাড়ি নিশানায় পরিণত করেছে। এই প্রসঙ্গে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “জলকামান, কাঁদানে গ্যাস বা লাঠিচার্জ করে পিওকে-র মানুষকে আন্দোলন থেকে পিছু হটানো যায়নি। তাই পাকিস্তান এখন এই চরম পদক্ষেপ নিচ্ছে।” তবে সরকারের এমন বর্বরোচিত আচরণ সাধারণ মানুষকে দমানোর বদলে আরও বেশি একজোট করে তুলছে এবং তাদের আন্দোলনের পথকে আরও শক্ত করছে।
পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে খাদ্যপণ্য ও বিদ্যুতের ভর্তুকি, উন্নত শিক্ষা এবং মৌলিক মানবাধিকারের দাবিতে গত ৭ জুন থেকে লাগাতার বিক্ষোভ প্রদর্শিত হচ্ছে। ‘জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর জয়েন্ট অ্যাওয়েমি অ্যাকশন কমিটি’ (JKJAAC)-র নেতৃত্বে এই গণআন্দোলন দিন দিন বিশাল আকার ধারণ করছে।
গত জুন মাস থেকে পাক সরকারের এই দমনপীড়ন ও নৃশংসতায় এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৩-এ। বেআইনি আটক, বলপূর্বক অন্তর্ধান এবং অনবরত হুমকি সত্ত্বেও পাকিস্তানের নিপীড়নের বিরুদ্ধে মাথা নত করতে নারাজ আন্দোলনকারীরা। রাওয়ালকোটের ঘটনার পর পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

