উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র দীর্ঘ আন্দোলন এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধির রাজপথের বিক্ষোভের মুখে পড়ে অবশেষে প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি মেগা ভিডিও বার্তা পোস্ট করে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গর্হিত অপরাধ রুখতে শুক্রবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও বেশ কিছু কঠোর ও অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। একই দিনে এই ইস্যুতে এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট।
বৃহস্পতিবার মাঝরাতের ওই ভিডিও বার্তায় পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের উদ্দেশে আবেগপ্রবণ সুরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি জানি প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় বা সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও বেদনাদায়কতা। সেই কারণেই গত আড়াই মাসে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে।’’
দোষীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না স্পষ্ট জানিয়ে মোদি আরও বলেন, ‘‘দোষীদের ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা এখন জেলে। আমাদের সবচেয়ে বড় দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ব ছিল যাতে এই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেও ছাত্রছাত্রীদের একটি বছরও নষ্ট না হয়। সেই কারণেই দ্রুত পরীক্ষাগুলো আয়োজন করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।’’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় ইঙ্গিত দিয়েছেন, শুক্রবার কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের বৈঠকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এবং এনটিএ (NTA)-র মতো সংস্থায় আমূল সংস্কার আনতে অত্যন্ত কড়া একটি নতুন খসড়া বিলে অনুমোদন দেওয়া হবে। পরবর্তীতে তা সংসদে দ্রুত পাশ করানোর চেষ্টা করবে সরকার। এর আগে দিল্লি হাইকোর্টও প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ জারি করেছিল।
এদিকে সরকারের এই বার্তার পরেও পিছু হটতে নারাজ আন্দোলনকারীরা। যন্তর মন্তরের আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, শুধু কথায় কাজ হবে না। নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁসের পূর্ণ দায়ভার নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই লড়াই জারি থাকবে। একদিকে রাজপথে সিজেপি ও বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের লাগাতার আন্দোলন এবং অন্যদিকে মোদী সরকারের তড়িঘড়ি ক্যাবিনেট বৈঠক—সব মিলিয়ে দিল্লির রাজনৈতিক পারদ বর্তমানে চরমে উঠেছে।

