Gasoline Worth Hike | তেলের দাম বাড়লেও বেতন বাড়বে কি! জবাব দেবে কে?

Gasoline Worth Hike | তেলের দাম বাড়লেও বেতন বাড়বে কি! জবাব দেবে কে?

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


হরষিত সিংহ, মালদা: পাম্পে তেল নিতে গিয়ে পাম্পকর্মীর কথায় মাথায় কার্যত বাজ পড়ে সোনা ঘোষের (Gasoline Worth Hike)। বাইকের ট্যাংকির ঢাকনা খোলার সময় ওই কর্মী বলেন, ‘দাদা দাম দেখেছ!’ রেটচার্ট দেখে সোনা বলেন, ‘তিনদিন আগেই তো তেল নিলাম তোমার পাম্প থেকেই। এবার তো আগে থেকে জানতেই পারা গেল না কিছু। রাতারাতি এত দাম বাড়ল! আর এইভাবে ব্যবসা করা যাবে না।’ পেশায় দুধ বিক্রেতা সোনা হবিবপুরের ঋষিপুর পঞ্চায়েতের ঘোষপাড়া থেকে নিয়মিত দুধ নিয়ে আসেন মালদা শহরে। বাইকে করে শহর ঘুরে ঘুরে বাড়ি বাড়ি দুধ বিক্রি করেন। কিন্তু হঠাৎ তিন টাকার বেশি পেট্রোলের দাম বৃদ্ধিতে চিন্তিত তিনি। প্রতিদিন তাঁর গড়ে এক-দুই লিটার পেট্রোল প্রয়োজন হয়। এদিন সোনা বলেন, ‘আর সম্ভব নয়। এবার মনে হচ্ছে সাইকেলে করেই ঘুরতে হবে।’

মধ্যরাত থেকে পশ্চিমবঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম। মালদা পাম্পের মালিকদের একাংশ জানায়, ডিজেলের দাম বেড়েছে ৩.১১ পয়সা। এদিকে পেট্রোলের দাম বেড়েছে ৩ টাকা ২৯ পয়সা। অনেকে আছেন যাঁরা বাইক বা ছোট গাড়ি ব্যবহার করে ছোটখাটো ব্যবসা করে থাকেন। দাম বৃদ্ধিতে সমস্যায় পড়েছেন সকলেই। পাশাপাশি মালদা শহরের ট্রাক মালিকদের একাংশ জানিয়েছে, হঠাৎ এমন জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তারাও নানান সমস্যায় পড়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অগ্রিম বুকিং হয়ে থাকে তাদের ট্রাক। কোনও গাড়ি হয়তো এক মাস আবার কোনও গাড়ি হয়তো দুই মাস আগে বুকিং রয়েছে। তাই হঠাৎ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলেও তারা আর ভাড়া বাড়াতে পারবে না। আবার অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায় লরি। এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলি সঙ্গে ট্রাক বা লরি মালিকদের চুক্তি হয়ে থাকে। এই সময় চুক্তি ভাঙা অসম্ভব। তাই হঠাৎ করে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকটাই লাভের অংশ এবার কমবে ট্রাক মালিকদের। এবিষয়ে মালদা মাল এক্সেল ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সৌম্যপ্রসাদ বসু বলেন, ‘হঠাৎ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা সমস্যায় পড়েছি। এদিকে সরকারিভাবে গাড়ির ফিটনেস ফি বাড়িয়ে দিয়েছে। সবমিলিয়ে সমস্যার মধ্যেই আমরা।’

শহরের বাসিন্দা সুমন সাহা সামসী পলিটেকনিকের কর্মী। বাড়ি থেকে প্রতিদিন বাইক নিয়ে যাতায়াত করেন। হঠাৎ করে লিটারপিছু প্রায় ৩ টাকা পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নিয়মিত এখন তিনি বাইকে যাবেন কি না তা নিয়ে ভাবছেন। তাঁর কথায়, ‘যেতে আসতে প্রতিদিন আমার প্রায় দুই লিটার তেল প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন ছয় টাকা করে খরচ বাড়ল।’

শুধুমাত্র সুমন নয়, এরকম অনেকেই রয়েছেন যাঁরা জেলার বিভিন্ন ব্লকের গ্রাম থেকে শহরে কর্মসূত্রে আসেন কিংবা শহর থেকে গ্রামীণ এলাকায় কাজের জন্য নিয়মিত যাতায়াত করেন। হঠাৎ তেলের এমন দাম বৃদ্ধিতে পকেটের টান পড়েছে তাঁদেরও। যেমন রতুয়ার একবর্নার বাসিন্দা বিপ্লব ঘোষ কর্মসূত্রে প্রতিদিন মালদা শহরে প্রায় ৫০ কিলোমিটার বাইক চালিয়ে আসেন। বিপ্লব বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ল কিন্তু আমার বেতন তো আর বাড়ছে না। কী করব এখনও ভাবিনি। বাইক একটু কম চালানোর চেষ্টা করব।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *