উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ইংল্যান্ড সফরের পারফরম্যান্স এবং দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের দুই তারকা ক্রিকেটার ইমাম-উল-হক (Imam-ul-Haq) এবং মহম্মদ রিজওয়ানের (Mohammad Rizwan) বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ দমন সংস্থার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেও তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
লাহোরের জোহর টাউনে সাইবার অপরাধ (Cyber Crime) দমন সংস্থার দপ্তরে দীর্ঘক্ষণ ধরে ম্যারাথন জেরা করা হয়েছে দুই ক্রিকেটারকে। তদন্তকারী সংস্থা তাঁদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা চালিয়েছে। ইংল্যান্ড সফর চলাকালীন এবং তার পরবর্তী সময়ে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোনও অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে কিনা এবং তাঁরা ম্যাচ গড়াপেটার (Match Fixing) সঙ্গে যুক্ত কি না—সেটিই খতিয়ে দেখছে সংস্থা। সাজঘরের গোপন তথ্য বাইরে প্রকাশ করে দেওয়া এবং অনুশীলন বা ম্যাচের সময় তাঁরা বাইরের কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, সে বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সাইবার সংস্থার পাঠানো প্রশ্নমালার একটির জবাব এক ক্রিকেটার দিলেও অন্যজন সময় চেয়েছেন।
বোর্ডের তরফে দুই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আলাদাভাবে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্টস ট্রফি নামের প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতায় তাঁদের খেলার কথা থাকলেও ফিটনেস পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া এবং চলমান তদন্তের কারণে প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ থেকে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেও তাঁদের নির্বাসিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ইংল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে দলে থাকা সত্ত্বেও পায়ে চোটের কারণ দেখিয়ে ব্যাট করতে নামেননি ওপেনার ইমাম-উল-হক। কিন্তু চতুর্থ দিনে পায়ে স্ট্র্যাপ বেঁধে শর্টস পরে মাঠে অনুশীলন করায় তাঁর চোটের সত্যতা নিয়ে জোর বিতর্ক তৈরি হয়। ক্রিকেট মহলের একাংশের ধারণা, এটি নিছক অভিনয় ছিল। এই অভিযোগে তাঁকে দু’বছরের জন্য নির্বাসিত করা হতে পারে। অন্যদিকে, দলের সিনিয়র ক্রিকেটার হওয়া সত্ত্বেও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং দলের নিয়ম ভাঙার অভিযোগ উঠেছে মহম্মদ রিজওয়ানের বিরুদ্ধে। পিসিবি সূত্রে খবর, ভবিষ্যতে তাঁকে জাতীয় দলে আর সুযোগ না দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।
পাক ক্রিকেটের অন্দরে চলা এই বহুমুখী তদন্ত ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপে দুই তারকার আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

