উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সূচি ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) ভূমিকা নিয়ে বিরোধী শিবিরের তীব্র প্রতিবাদের আবহেই চলতি মাসের শেষের দিকে সংসদের বিশেষ অধিবেশন (Particular Parliament Session) ডাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের খবর, এই বিশেষ অধিবেশনে সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং নারী সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধন বিল পেশ করে তা অনুমোদন করিয়ে নেওয়াই শাসকদলের মূল লক্ষ্য। সংবিধানে এই রদবদল ঘটাতে লোকসভায় প্রয়োজনীয় সাংসদ বল রয়েছে বলে জোর দাবি করা হচ্ছে কেন্দ্র সরকারের শীর্ষ সূত্রের তরফ থেকে। পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট নিশ্চিত করতে এবং বিরোধী দলগুলিকে নিজের পক্ষে টানতে ইতিমধ্যেই নেপথ্যে বৈঠক ও সলাপরামর্শ জোরদার করেছে বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব।
চলতি বছরের গত ১৭ এপ্রিল বাজেট অধিবেশন চলাকালে সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিলটি নিম্নকক্ষে খারিজ হয়ে যাওয়ায় বড়সড়ো ধাক্কা খেয়েছিল বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আর কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় এনডিএ। সাধারণত সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে লোকসভার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ৫৪০ জন সদস্যের মধ্যে প্রায় ৩৬০ জন প্রতিনিধির সমর্থন প্রয়োজন হয়। বর্তমান লোকসভায় এনডিএ এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও এই বিশেষ জাদুকরী পরিসংখ্যানে পৌঁছনোর মতো পর্যাপ্ত আসন তাদের ছিল না। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে সংসদীয় সমীকরণ অনেকটাই বদলে গিয়েছে। আগের অধিবেশনের পর থেকে এ যাবৎ বিরোধীদের শিবির ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন এবং শিবসেনার (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) ৬ জন সাংসদ শাসকপক্ষের দিকে ঝোঁকায় লোকসভায় কেন্দ্র সরকারের অবস্থান আগের তুলনায় অনেক বেশি মজবুত হয়েছে।
এর পাশাপাশি, বিল দুটি অনায়াসে পাস করিয়ে নিতে অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির দরজাতেও কড়া নাড়ছে দিল্লি। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের পর কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ভেঙে ‘ইন্ডি’ ব্লক থেকে বেরিয়ে আসা দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগাম বা ডিএমকে নেতৃত্বের সঙ্গে ইতিমধ্যেই সমঝোতার পথ প্রসারিত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর পাশাপাশি কয়েকটি ছোট দলকেও পাশে পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব।
এদিকে গত ১৩ অগাস্ট সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি ঘোষণা হলেও তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত বা প্ররোগ করা হয়নি। সাধারণ নিয়মে অধিবেশন মুলতবি হওয়ার দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্ররোগেশনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। কিন্তু দু’মাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও তা না করার পেছনে সরকারের আগাম পরিকল্পনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে নতুন করে অধিবেশন না ডেকে সরাসরি কক্ষ আহ্বান করা মোদি সরকারের জন্য সহজ হবে। খবর মিলেছে, অন্তত এক সপ্তাহ আগে অধিবেশনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে। আগামী ২৬ ও ২৭ অক্টোবর সংবিধান সদনে ১২তম ব্রিকস পার্লামেন্টারি ফোরামের সূচি সামনে রেখে শীঘ্রই অধিবেশনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করবে সরকার।

