প্রতিবছরই পুজোর মরশুমে প্যান্ডেল চত্বরে বুক স্টল খোলে বামেরা। এবার তা নিয়েই দানা বেঁধেছিল বিতর্ক। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘শারদোৎসব’ নয়, লিখতে হবে ‘দুর্গাপুজো’। পরবর্তীতে জল গড়িয়েছিল হাই কোর্টে। মিলেছে স্টলের অনুমতি। এই আবহে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ খোঁচা দিয়ে বললেন, “করছে করুক না, বিক্রি তো হয় না।” সত্যিই কি তাই? জানেন প্রতিবছর পুজোর স্টল থেকে কত টাকা আয় করে বামেরা?
প্রতিবছর পুজোয় রাজ্যজুড়ে কয়েকহাজার বুক স্টল খোলে বামেরা। শুধু কলকাতাতেই সংখ্যাটা প্রতিবছর থাকে ১০০-এর বেশি। কী মেলে সেখানে? মার্কসবাদী ও কমিউনিস্ট সাহিত্যের পাশাপাশি জনপ্রিয় বাংলা সাহিত্য, বিজ্ঞান এবং বিভিন্ন ধারার বই থাকে। থাকে বিবেকানন্দকে লেখা বইও। কিন্তু তারা কখনই স্টলে ‘দুর্গাপুজো’ শব্দটি ব্যবহার করে না। তাঁরা লেখে শারদোৎসব। তাতেই বেজায় আপত্তি ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। আদালতে জল গড়ালে বলা হয়, “লটারি তো বিক্রি করছে না, বই বিক্রি হবে।” তবে কয়েকদিনে একাধিক স্টলে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এরই মাঝে ষষ্ঠীর সকালে দিলীপ বলেন, “সবাই স্টল করতে পারে। এতদিন করেছেন, করুন। বিক্রি তো হয় না। ২৫ বছর সেই একই বই রাখা। যেগুলো প্রদর্শনী হয়। এটাকে স্টল না বলে প্রদর্শনী বলুন। কিন্তু তারপরও কিছু ড্রামা করে খবরে আসার চেষ্টা করা হয়।”
আরও পড়ুন:
কিন্তু তথ্য বলছে অন্য কথা। জানা গিয়েছে, গোটা বাংলা মিলিয়ে প্রতিবছর পুজোর স্টল থেকে বামেরা কমপক্ষে ৩৫ থেকে ৪০ লক্ষ টাকার বই বিক্রি করে। কলকাতার যাদবপুরের স্টল থেকে কোনও বছর ৩ লক্ষ আবার কোনওবছর তার থেকেও বেশি আয় হয়। শিলিগুড়ির ছবিটাও প্রায় একইরকম থাকে। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য একটি পোস্টে দাবি করেছেন, চলতি বছরে পুজোর প্রথম দুদিনেই যাদবপুরের একটি স্টলে প্রায় ২ লক্ষ টাকার বিক্রি হয়েছে উল্লেখ্য, এবছর রাজ্যজুড়ে রেকর্ড সংখ্যক বুক স্টল করছে বিজেপি। তারা কি টেক্কা দিতে পারবে বামেদের? উত্তর মিলবে বেশ কয়েকমাস পর। কারণ, গোটা রাজ্যের পরিসংখ্যান সামনে আসে বছরের একেবারে শেষপ্রান্তে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
