উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) ইস্তফার দাবিতে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আইনি বিপাকে পড়ল ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি (CJP)। নিষেধাজ্ঞা থাকা যন্তর মন্তরে অনধিকার প্রবেশ ও পুলিশি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দলের শীর্ষ দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেপাজতে (CJP leaders judicial custody) পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একই মামলায় ধৃত অপর নেতা অজিঙ্ক শিন্ডেকে অবশ্য ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এদিন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তিন সিজেপি নেতাকে হাজির করানো হলে এমন নির্দেশ দেওয়া হয়।
বুধবার দিল্লির মন্দির মার্গে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তোলা হয় সৌরভদের। দিল্লি পুলিশ সূত্রের খবর, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা বারবার অমান্য করার কারণে সৌরভ ও আশুতোষের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে ৫০ হাজার টাকার বন্ড এবং এক বছর শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকারনামা দিয়ে ছাড়া পেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু গত শনিবারের প্রতিবাদের পর মঙ্গলবারও ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় তাঁদের ‘বারংবার অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সকালে, যখন ব্যারিকেড ভেঙে যন্তর মন্তরে ঢুকে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন এই নেতারা। এর পরই তাঁদের আটক করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আইনি শাখার প্রধান রত্না সিং নেটমাধ্যমে অভিযোগ করেন, গভীর রাতে একটি বেসরকারি গাড়িতে করে সৌরভদের থানায় এনে রাখা হয় এবং দীর্ঘক্ষণ আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। এদিকে আদালতের সিদ্ধান্তের পর সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke) সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লেখেন, ‘আশু ও সৌরভকে ৫ দিনের বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠানো হয়েছে। তাদের অপরাধ? যন্তর মন্তরে তেরঙা ওড়ানো। একটু সাহস দেখান, @narendramodi। ভিন্নমত দমন করার ব্যাপারে যদি এতটাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন, তবে কাপুরুষোচিত কৌশলের আড়ালে না লুকিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার সাহস দেখান।
Ashu and Saurav have been despatched to five days judicial custody. Their fault? Unfurling tricolour at Jantar Mantar. Present some guts, @narendramodi. Should you’re so decided to crush dissent, have the braveness to formally declare an Emergency as a substitute of hiding behind these cowardly ways.
— Abhijeet Dipke (@abhijeet_dipke) October 14, 2026
’
ভোটের খসড়া তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে রাজধানী এখন উত্তাল। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ১১ অক্টোবর পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এক নির্দেশে রামলীলা ময়দান, বুরারি ও সিবিডি গ্রাউন্ডকে আন্দোলনের বিকল্প স্থান হিসেবে নির্দিষ্ট করেন এবং যন্তর মন্তরকে তালিকা থেকে বাদ দেন। তবে সিজেপি-র স্পষ্ট দাবি, শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে বিক্ষোভ সরিয়ে দিলে আন্দোলনের ঝাঁজ ও দৃশ্যমানতা অনেকটাই ফিকে হয়ে যাবে।

