Outdated Malda | তাঁত বোনা ছেড়ে চপ-ঘুগনি বিক্রি, পুরাতন মালদার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প কি তবে বিলুপ্তির পথে?

Outdated Malda | তাঁত বোনা ছেড়ে চপ-ঘুগনি বিক্রি, পুরাতন মালদার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প কি তবে বিলুপ্তির পথে?

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


একসময়ের দিনভর ঘটাং-ঘটাং আজ কার্যত অতীত। তাঁত চালিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে তাঁতিদের পক্ষে। ফলে বেশিরভাগই পেশা বদলাতে বাধ্য হয়েছেন, অনেকে আবার পাড়ি দিয়েছেন ভিনরাজ্যেও। সেইসঙ্গে নতুন সরকারের বাজেটে এই শিল্পের উন্নতির জন্য কোনওকিছুই ঘোষণা না হওয়া তাঁতিদের হতাশা বাড়িয়েছে। লিখলেন কল্লোল মজুমদার। 

পুরাতন মালদা: এখন আর শোনা যায় না তাঁত টানার সেই পরিচিত ঘটাং-ঘটাং। বদলে পুরাতন মালদার (Outdated Malda) ঘরে ঘরে আজ যেন শুধু প্রতিধ্বনিত হয় তাঁতিদের বুকচাপা কান্না। অথচ একটা সময় ছিল, যখন বুলবুলচণ্ডী মোড় থেকে সাহাপুর পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে হাজার হাজার তাঁতি তাঁত বুনতেন। তাঁতের শব্দে চাপা পড়ে যেত যানবাহনের আওয়াজ। সেই ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করেই এলাকার দুটি অংশের নাম হয়ে উঠেছিল ‘তাঁতিপাড়া’।

কিন্তু সময় বদলেছে। এখন একজন তাঁতিকে খুঁজে পেতে হিমসিম খেতে হয়। কারণ, তাঁত বুনে এখন আর সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একের পর এক তাঁতি পেশা বদল করতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ চপ-ঘুগনির দোকান খুলেছেন, কেউ চায়ের, কেউ বা ডালপুরির ব্যবসা করছেন। আবার অনেকেই কাজের খোঁজে পাড়ি দিচ্ছেন ভিনরাজ্যে।

যেমন- সুদর্শন দাসের পরিবারে একসময় একাধিক তাঁত চলত, শ্রমিকও কাজ করতেন। এখন তাঁর বাড়িতে একটি তাঁতও নেই। বর্তমানে তিনি চপ-ঘুগনির দোকান চালান। তাঁর কথায়, ‘তাঁত চালিয়ে আর সংসার চলে না। তাই দোকান করেছি। এখন ভালোই আয় হচ্ছে।’ একসময় প্রায় ৪০টি তাঁতের মালিক ছিলেন হরিলাল দাস। ভাঙাচোরা তাঁতযন্ত্রের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৮২ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত তাঁতের ব্যবসা করেছি। নিজের তাঁত তো ছিলই, দাদনেও কয়েকটি তাঁত চলত। কিন্তু এখন সেই শিল্প আর নেই বললেই চলে। সারাদিন কাজ করেও শ্রমিকরা অন্য কাজের তুলনায় কম মজুরি পান। তাই কেউ আর তাঁত চালাতে চান না।’

সাহাপুর তাঁতিপাড়ায় (Malda Information) গিয়ে দেখা গেল, একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসে এখনও তাঁত বুনছেন প্রবীণ অচিন্ত্য দাস। তিনি বলেন, ‘একটি সমবায় সমিতির মাধ্যমে সুতো পাই। একটি থান কাপড় বুনতে দুই-তিনদিন সময় লাগে। তার জন্য পাই মাত্র এক হাজার টাকা। এতে কীভাবে সংসার চলবে?’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রাক্তন ব্যবসায়ী জানান, শুধু মঙ্গলবাড়ি তাঁতিপাড়াতেই প্রায় ৪০০টি তাঁত ছিল। এখন হাতেগোনা পাঁচ-ছয়টি তাঁত চলছে, তাও শুধু খাদির কাপড় তৈরি হয়। শাড়ি তৈরি প্রায় বন্ধ। সবাই অন্য পেশায় চলে গিয়েছেন।

একসময়ের তাঁতশিল্পী মোহন হালদারের কথায়, ‘এখন অন্য কাজে একজন শ্রমিক দিনে ৪০০ টাকা মজুরি পান। তাঁত চালিয়ে যদি সংসারই না চলে, তাহলে কেউ এই পেশায় থাকবে কেন? তাই অধিকাংশই এখন নির্মাণশ্রমিকের কাজ করছেন। আমিও মুদিখানার দোকান করেছি।’ তাঁত ব্যবসায়ীদের দাবি, রাজ্যে বাম জমানার অবসানের পর থেকেই মালদা জেলায় তাঁতশিল্পের অবনমন শুরু হয়। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি হাতে তৈরি তাঁতের শাড়ির বাজারও ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে। ফলে পুরাতন মালদার এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে।

তাঁতিদের হতাশা আরও বাড়িয়েছে নতুন সরকারের বাজেটে এই শিল্পের (Handloom Trade) উন্নতির জন্য কার্যত কোনওকিছুই ঘোষণা না হওয়া। নেই কোনও পরিকল্পনাও। মালদা তাঁতবিহীন তন্তু সমবায় সমিতির তরফে অতুল সরকারের অভিযোগ, ‘সমস্ত সরকারের পরিকল্পনা ও বাজারের অভাবে পুরাতন মালদার তাঁতশিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। আগে শুধু সাহাপুর এলাকাতেই হাজারেরও বেশি তাঁতি ছিলেন। কিন্তু এখন সেই সংখ্যাটা হাতেগুনে মাত্র কয়েকজন। বর্তমান সরকারের বাজেটেও তাঁত নিয়ে কোনও উল্লেখ নেই।’

তাঁতশিল্পীদের প্রশ্ন, অন্য জেলার তাঁতিদের থেকে যদি পুজোর আগে মঞ্জুষা বা তন্তুজের মতো সংস্থাগুলি শাড়ি কিনতে পারে, তাহলে মালদার তাঁতিদের ক্ষেত্রেও একই উদ্যোগ নেওয়া হবে না কেন? তাঁদের আক্ষেপ, প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং সরকারি উদ্যোগের অভাবেই মালদার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *