উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ সিপিএমের শ্রমিক সংগঠনের মিছিলে শামিল তৃণমূল নেতা-কর্মীরা! সাম্প্রতিককালে এমনই বিরল ঘটনা সামনে এল জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে। শুক্রবার দেখা গেল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শত্রুতা কোথায় যেন মিলিয়ে গেল ক্ষোভ আর পেটের লড়াইয়ের চাপে। পেটের লড়াইয়ের টানে এক হয়ে গেল দুই দল। বামেদের শ্রমিক সংগঠন সিটুর মিছিলে সামিল হলেন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা- কর্মীরা। ঘটনাটি সামনে আসতেই ধামাচাপা দিতে মরিয়া বাংলার শাসকদল।
পেটের লড়াইয়ের টানে এক হয়ে গেল দুই দল। বামেদের শ্রমিক সংগঠন সিটু (CITU)-র মিছিলে শামিল হলেন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা- কর্মীরা। সম্প্রতি রাজ্য সরকার নতুন করে টোটো রেজিষ্ট্রেশন ফি চালু করেছে। এই রেজিষ্ট্রেশন ফি বাতিলের দাবিতে শুক্রবার দুপুরে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ বিডিও অফিস ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন ই-রিকশা চালক ইউনিয়নের (সিআইটিইউ) কর্মীরা। সেই বিক্ষোভে শামিল হয় তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি (INTTUC)-র সদস্যরা। পতাকা কাঁধে নিয়ে এক সঙ্গে মিছিল করতেও দেখা যায় দুই সংগঠনের নেতা-কর্মী সমর্থকদের। এদিন রাজগঞ্জ বিডিও অফিসে বিক্ষোভকারীদের ঢোকার অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। শেষে টোটো চালকেরা পথ অবরোধে বসে পড়েন। থমকে যায় যান চলাচল, থমকে যায় সরকারি কাজও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন হয়। শেষমেশ ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল জয়েন্ট বিডিও-র কাছে ডেপুটেশন জমা দেয়।
সিটুর পতাকার পাশে এদিন দেখা গেল তৃণমূলের আইএনটিটিইউসি-র কর্মীদেরও। তাঁদের বক্তব্য, “টোটো চালকদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপানো হলে আমরা চুপ করে থাকব না। যাঁরা চালকদের স্বার্থে বলবেন, আমরা তাঁদের সঙ্গে থাকব—রাজনীতি নয়, এটা মানুষের পেটের লড়াই।”
এদিনের ঘটনায় যথেষ্টই অস্বস্তিতে ফেলেছে তৃণমূলকে। দলীয় নেতৃত্ব এ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ। দলবিরোধী মিছিলে যোগ দেওয়া নিয়ে জেলায় তৃণমূলের অন্দরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
