সৌরভ রায়, ফাঁসিদেওয়া: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের গ্রাম চটহাটে জামতাড়ার ধাঁচে অনলাইন জালিয়াতির (On-line Fraud) মূল অভিযুক্ত মহম্মদ সইদুল ভাড়া নেওয়া ৫০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ৩৩০ কোটি টাকা লেনদেন করেছিলেন। পুলিশকে তাঁর সম্পত্তি অ্যাটাচ করার নির্দেশ দিয়েছে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালত।
সীমান্ত লাগোয়া ফাঁসিদেওয়া ব্লকের চটহাট থেকেই অনলাইন গ্যাম্বলিংয়ের টাকা বিদেশে পাঠানোর বড় চক্র গড়ে তুলেছিলেন মাস্টার মাইন্ড সইদুল। সম্প্রতি আদালতের বিচারক তাঁর নিজের নামে থাকা প্রায় ১ কোটি টাকার সম্পত্তি অ্যাটাচ করার নির্দেশ দিয়েছে। চলতি মাসের ২২ তারিখ কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে করা সইদুলের জামিনের আর্জিও খারিজ হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চটহাট বাজারে ১২ ডেসিমাল জমির উপর সইদুলের একটি বিল্ডিং রয়েছে। স্থানীয় কুচিয়া মোড়ে ৯ ডেসিমাল জমি রয়েছে তাঁর নামে। দুটি সম্পত্তিই অ্যাটাচমেন্টের কাজ শুরু করেছে ফাঁসিদেওয়া থানা। এই ঘটনায় ধৃত তপন গোপ, মহম্মদ রেজাবুল ছাড়াও সইদুল এবং তাঁর দাদা মহম্মদ ফয়জাল ধরা পড়েছেন। আপাতত তাঁরা জেলে রয়েছেন।
মহকুমা আদালত সম্পত্তি অ্যাটাচের নির্দেশ দেওয়ায় আরও চাপে অনলাইন জুয়ার টাকা বিদেশে পাঠানোর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সইদুল। এর আগেও একাধিকবার জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে তঁার। পুলিশ জানিয়েছে, ৪৬৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে সেগুলির মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার টাকা বিদেশে পাচার করেছেন সইদুল। এর মধ্যে, শুধুমাত্র ৫০টি অ্যাকাউন্ট মারফতই লেনদেনের পরিমাণ ৩৩০ কোটি টাকা। পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে, সইদুলের নিজস্ব অ্যাকাউন্ট দিয়েই ৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। সইদুলের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে এমন ২৩২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এখনও ফ্রিজ হয়ে রয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলিতে ৭৯ লাখ টাকা রয়েছে। সইদুলরা অন্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে মূলত দুবাই, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, আবু ধাবি ও শ্রীলঙ্কায় টাকা পাঠিয়েছে।
২০২৪ সালের মে মাস নাগাদ ফাঁসিদেওয়া থানা অনলাইন জালিয়াতির টাকা বিদেশে পাঠানোর চক্রের হদিস পায়। পুলিশি অভিযানের প্রথমেই গ্রেপ্তার হন তপন। ৯ মাস পলাতক থাকার পর চলতি বছর ৪ মার্চ গ্রেপ্তার হন মূল অভিযুক্ত সইদুল। তাঁর সেকেন্ড ইন কমান্ড রেজাবুলকে ২৪ মার্চ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রায় দেড় বছর পলাতক থাকার পর সইদুলের কাজে সহযোগী তাঁর দাদা ফয়জাল ধরা পড়ে। চলতি বছর ১৬ এপ্রিল সইদুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।
নকশালবাড়ির এসডিপিও সৌম্যজিৎ রায় বলেন, ‘দার্জিলিংয়ের পুলিশ সুপারের নির্দেশেই সবটা দেখা হচ্ছে। কয়েকশো কোটি টাকার জালিয়াতির এই ঘটনায় দোষীরা শাস্তি পাবে। এতে এই ধরনের কাজে জড়িয়ে পড়ার স্পর্ধা অপরাধীদের আর হবে না।’
