প্রতিবেশীদের চোখ রাঙিয়ে পরপর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া। আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের যৌথ মহড়া শেষ হতেই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বাড়াল কিম জন উনের দেশ। রবিবার মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে খবর। এই ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। এই হামলার তীব্র নিন্দা করে জানানো হয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে।
প্রশান্ত মহাসাগরে শুরু হয়েছিল আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম এজ’। এই ঘটনার পরই উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, এই সামরিক মহড়ার পালটা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে পিয়ংইয়ং জানায়, ‘যে কোনও ধরনের সামরিক মহড়া আসলে যুদ্ধের উসকানি’। মহড়া শেষের পরই গত সপ্তাহে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল উত্তর কোরিয়া। এরপর রবিবার দুপুর ৩টে নাগাদ পূর্ব উপকূলের ওনসান এলাকা থেকে ছোড়া হয় ব্যালেস্টিক মিসাইল। যা ৪৫০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে মাঝ সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। এর ৩ ঘণ্টা পর আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
আরও পড়ুন:
প্রশান্ত মহাসাগরে শুরু হয়েছিল আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম এজ’।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব দিকের সমুদ্রে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। সম্ভবত সেটি ব্যালেস্টিক মিসাইল। যদিও সেই ক্ষেপণাস্ত্র জাপানের সমুদ্র সীমার বাইরে গিয়ে পড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি হোয়াসং-১১ সিরিজের বলে অনুমান। দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে অবশ্য বিশদে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। দুই দেশের তরফেই এই ধরনের কার্যকলাপের নিন্দা করে মিসাইল পরীক্ষা থেকে বিরত থাকার কথা আবেদন জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মাসে উত্তর কোরিয়া নিয়ে কিছুটা সুর নরম করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর নিজস্ব সোশাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশাল’-এ লিখেছিলেন- ‘উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনের সঙ্গে আমার অত্যন্ত ভালো সম্পর্কের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় আমেরিকার দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণের বিষয়টি আমার কাছে সন্তোষজনক মনে হচ্ছে না।’ পাশাপাশি তাঁর দাবি, ‘এই মহড়াগুলো কেবল ব্যয়বহুলই নয়, যার বড় একটি অংশ (বরাবরের মতোই) আমেরিকাকে বহন করতে হয়— বরং এগুলি এমন একটি দেশের প্রতি সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ও শত্রুতার বার্তা পাঠায়, যারা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন কোনও হুমকি দেয়নি। এবং সর্বদা শ্রদ্ধাশীল আচরণই করেছে।” ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে অনেকেই অবাক হন। কেন হঠাৎ কিমের প্রতি ট্রাম্প এমন ‘নরম’ মনোভাব দেখাচ্ছেন তা নিয়ে বিস্মিত ওয়াকিবহাল মহল।
কিন্তু ট্রাম্প ‘শান্তির বাণী’ শোনালেও উত্তর কোরিয়া যে সেসবে কান দিচ্ছে না তা বুঝিয়ে দিয়েছেন কিমের বোন কিম ইয়ো জং। তিনি জানিয়েছেন, ‘সামরিক মহড়ার সময়সীমা ও পরিসর কমানো হলেও এর উসকানিমূলক ও আগ্রাসী চরিত্র বদলাবে না। আমেরিকা মনে করতেই পারে, যে তাদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপটিকে তারা তথাকথিত ‘সদিচ্ছা’র নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরতে পারবে, কিন্তু তারা কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাবে না।’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
