উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: পরকীয়া সম্পর্কের পথে কাঁটা সরাতেই স্বামীর ওপর এমন অমানবিক নির্যাতন! তেলেঙ্গানার নিজামাবাদ (Nizamabad) জেলায় ঘটেছে এক ভয়াবহ খুনের ঘটনা। নার্স স্ত্রী প্রথমে স্বামীকে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্বামীর শরীরে ক্যানুলার মাধ্যমে টয়লেট ক্লিনার ইনজেক্ট করে নৃশংসভাবে খুন করেছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
নিহত প্রশান্ত (৩৫) কিছুদিন আগেই গালফ (Gulf) থেকে দেশে ফিরেছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্তের স্ত্রী সন্ধ্যা অনিল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। স্বামী ফিরে আসায় সেই সম্পর্কে বাধা তৈরি হয়েছে ভেবে সন্ধ্যা ও তার প্রেমিক অনিল প্রশান্তকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। এই কাজে তারা ভেঙ্কট সাই (bunty) নামে এক সহযোগীকেও শামিল করে।
যেভাবে খুন করা হয়
১. প্রথম প্রচেষ্টা: ২৯ জুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভেঙ্কট সাই প্রশান্তের সঙ্গে মদ্যপান করে এবং তাকে বাড়ির ছাদে নিয়ে গিয়ে নিচে ফেলে দেয়। যদিও গুরুতর জখম অবস্থায় প্রশান্ত প্রাণে বেঁচে যায়। তাকে সরকারি ও পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
২. পরবর্তী পদক্ষেপ: সন্ধ্যা নিজেই যেহেতু পেশায় নার্স, তাই হাসপাতালের চিকিৎসার আড়ালেই তিনি তার আসল উদ্দেশ্য চরিতার্থ করেন। ৩০ জুন সন্ধ্যা নার্সিংয়ের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে প্রশান্তের শরীরে থাকা ক্যানুলার মাধ্যমে টয়লেট ক্লিনার ইনজেক্ট করে, যার ফলে প্রশান্তের মৃত্যু ঘটে।
প্রশান্তের মায়ের সন্দেহ হওয়ায় তিনি ১ জুলাই পুলিশের দ্বারস্থ হন। তদন্তে নেমে পুলিশ ভেঙ্কট সাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই জেরায় সে অপরাধের কথা স্বীকার করে নেয়। ৪ জুলাই পুলিশ তিন অভিযুক্ত—সন্ধ্যা, অনিল এবং ভেঙ্কট সাইকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের আদালতে তোলার পর বিচার বিভাগীয় হেফাজতে (Judicial Custody) পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। একজন জীবনদায়ী পেশায় নিযুক্ত ব্যক্তি কীভাবে ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য খুনের মতো জঘন্য অপরাধ করতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

