James Burrows | অবসান এক সোনালী অধ্যায়ের: প্রয়াত ‘ফ্রেন্ডস’ খ্যাত কিংবদন্তি পরিচালক জেমস বারোজ, আবেগমথিত শ্রদ্ধাজ্ঞাপন জেনিফার-কোর্টনির

James Burrows | অবসান এক সোনালী অধ্যায়ের: প্রয়াত ‘ফ্রেন্ডস’ খ্যাত কিংবদন্তি পরিচালক জেমস বারোজ, আবেগমথিত শ্রদ্ধাজ্ঞাপন জেনিফার-কোর্টনির

ব্লগ/BLOG
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন টেলিভিশনের দুনিয়ায় এক গভীর শূন্যতা। প্রয়াত হলেন হলিউডের ইতিহাসের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় সিটকম (Sitcom) পরিচালক এবং ‘চিয়ার্স’ (Cheers)-এর সহ-স্রষ্টা জেমস বারোজ (James Burrows)। গত শুক্রবার, ১৯ জুন ৮৫ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ‘পিপল’-কে এই দুঃখজনক খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

কিংবদন্তি এই পরিচালকের প্রয়াণে শোকাচ্ছন্ন গোটা হলিউড। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকের আইকনিক ধারাবাহিক ‘ফ্রেন্ডস’ (Buddies)-এর দুই প্রধান তারকা জেনিফার অ্যানিস্টন (Jennifer Aniston) এবং কোর্টনি কক্স (Courteney Cox) সমাজমাধ্যমে তাঁদের প্রিয় ‘পাপা বারোজ’-কে স্মরণ করে অত্যন্ত আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন।

পাঁচ দশকের কেরিয়ার ও অনন্য কীর্তি

জেমস বারোজ ছিলেন আমেরিকান টেলিভিশনের পর্দার পেছনের এক জাদুকর। পাঁচ দশকেরও বেশি দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি ১,০০০-এরও বেশি টেলিভিশন এপিসোড পরিচালনা করেছেন। তাঁর হাত ধরেই কালজয়ী রূপ পেয়েছিল একাধিক শো:

  • Buddies (ফ্রেন্ডস)
  • Cheers (চিয়ার্স)
  • Will & Grace (উইল অ্যান্ড গ্রেস)
  • The Large Bang Principle (দ্য বিগ ব্যাং থিওরি)
  • Frasier (ফ্রেজিয়ার)
  • Taxi (ট্যাক্সি)

টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি তাঁর কেরিয়ারে মোট ১১ বার এমি পুরস্কার (Emmy Awards) জিতেছেন।

“ওহ বয়… পাপা বারোজ”: জেনিফারের আবেগঘন পোস্ট

পরিচালকের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার একদিন পর, শনিবার ইনস্টাগ্রামে একগুচ্ছ পুরনো ও অদেখা ছবি পোস্ট করেন ‘র‍্যাচেল গ্রিন’ খ্যাত অভিনেত্রী জেনিফার অ্যানিস্টন। শুটিংয়ের পর্দার পেছনের মুহূর্ত থেকে শুরু করে অ্যাওয়ার্ড শো এবং সাম্প্রতিক পুনর্মিলনের ছবি দিয়ে সাজানো সেই পোস্টে জেনিফার লেখেন: “ওহ বয়… পাপা বারোজ। এই লেখাটার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো, তুমি সারাজীবন মানুষকে ভালোবেসে আগলে রেখেছ, আর এখন মাত্র কয়েকটা অনুচ্ছেদে সেই ভালোবাসাকে প্রকাশ করা অসম্ভব মনে হচ্ছে।”

জেনিফার আরও মনে করিয়ে দেন, বারোজ ‘ফ্রেন্ডস’-এর গোটা কাস্টকে সবসময় নিজের সন্তানের মতো দেখতেন এবং সেটে এসে খুঁজতেন— “বাচ্চারা সব কোথায়?” তিনি সেটের সবাইকে একে অপরের ওপর ভরসা রাখতে শেখাতেন যাতে প্রতিটি কমিক টাইমিং নিখুঁত হয়।

“কোথাও কোনো অহংকার ছিল না”: স্মৃতিচারণায় কোর্টনি কক্স

জেনিফারের পোস্টের কিছু পরেই আবেগঘন বার্তা দেন ‘মনিকা গেলার’ চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলা অভিনেত্রী কোর্টনি কক্স। জেমস বারোজের দেওয়া একটি মজার ডাকনামের কথা উল্লেখ করে কোর্টনি লেখেন: “জিমি বি আমাকে ‘কক্স-এন-হ্যামার’ বলে ডাকতেন। কেন ডাকতেন বা এর মানে কী, তা আমি জানি না। তবে তিনি জিমি বারোজ ছিলেন বলেই আমি মেনে নিয়েছিলাম। তিনি আমাদের নিজের ডানার নিচে আগলে রেখেছিলেন এবং আমাদের যা যা জানা প্রয়োজন সব শিখিয়েছিলেন। আমাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তিনি যা বলতেন, কোনো লুকোছাপা না করেই বলতেন— এবং তিনি সবসময়ই সঠিক হতেন।”

কোর্টনি আরও যোগ করেন, এত বড় মাপের একজন প্রতিভাবান এবং জ্ঞানী মানুষ হওয়া সত্ত্বেও জেমস বারোজের মধ্যে বিন্দুমাত্র অহংকার (Egoless) ছিল না। কাজকে সেরা করে তোলাই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। কাজের পাশাপাশি স্ত্রী ডেবি এবং সন্তানদের নিয়ে তাঁর সুখী গৃহকোণেরও প্রশংসা করেন কোর্টনি।

জেমস বারোজের প্রয়াণ কেবল ‘ফ্রেন্ডস’ পরিবারের জন্যই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে কয়েক প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা সিটকমপ্রেমীদের কাছেও এক অপূরণীয় ক্ষতি। পরিচালক হিসেবে তাঁর রেখে যাওয়া কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অভিনেতা, লেখক ও পরিচালকদের পথ দেখাবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *