উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ হড়পার (Nepal Flash Flood) অন্তহীন বিষাদের মাঝে আশার আলো হয়ে সামনে এল কিছু অবিশ্বাস্য উদ্ধারের ঘটনা। বিপর্যয় আঘাত হানার দীর্ঘ ১১ দিন পর আপার ‘ত্রিশূলী-১’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হল এক চিন শ্রমিককে (Chinese language employee rescued)। অন্যদিকে, নুয়াকোট জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধাকেও।
শনিবার উদ্ধার হওয়া চিনা নাগরিকের নাম লুহাইতাও (Luhaitao)। নেপালি সেনাবাহিনী এবং বিদেশি উদ্ধারকারীদের একটি যৌথ দল নুয়াকোট জেলার ২১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার আপার ‘ত্রিশূলী-১’ প্রকল্পের ৪ নম্বর অডিট সুড়ঙ্গের প্রায় ২২৫ মিটার গভীর থেকে তাঁকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনে। এরপর দ্রুত হেলিকপ্টারে করে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরিত করা হয়। এর ঠিক একদিন আগেই ‘ত্রিশূলী ৩-এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে কবির মহারজান ও সঞ্জয় শাহ নামক দুই নেপালি শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। এই নিয়ে কেবল ত্রিশূলী প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকেই মোট তিনজন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হল।
অন্যদিকে, নুয়াকোটের বেত্রাবতী এলাকায় চারতলা বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে ১১ দিন পর অলৌকিকভাবে উদ্ধার হয়েছেন ৬০ বছর বয়সি চন্দিকা শ্রেষ্ঠা (Previous lady rescued)। ওই বাড়ির ওপরের তলা থেকে সশস্ত্র পুলিশের একটি ৯ সদস্যের দল তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে প্রয়োজনে কাঠমান্ডুতে স্থানান্তরিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ অগাস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধস এবং তার জেরে সৃষ্ট হড়পায় ভেসে যায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে ১ হাজার ৩০০-র বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের নিজস্ব বাহিনীর পাশাপাশি ভারত, চিন, দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার উদ্ধারকারী দলগুলি এই উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে। একের পর এক এমন রোমহর্ষক জীবিত উদ্ধারের ঘটনা তল্লাশি অভিযানে নিয়োজিত উদ্ধারকর্মীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

