শিলিগুড়ি: পুজোর আগে শিলিগুড়িতে এসে তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাসে দাঁড়িয়ে উত্তরবঙ্গ পরিবহণ নিগমে (NBSTC) কর্মীসংকটের বিষয়টিকে মাথায় রেখে ১০০ জন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের কথা ঘোষণা করেছিলেন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। সেই ঘোষণায় হাসি ফুটেছিল নিগমের কর্তাদের মুখেও। তবে দিন যত এগোচ্ছে, ততই যেন নিরাশ হয়ে পড়ছেন তাঁরা। কিন্তু কেন?
দীর্ঘদিন ধরেই নিগমে চালক ও কনডাক্টর কম রয়েছে। এ নিয়ে একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে নিগমের কর্তাদের। সেই সমস্যা দূর করতেই কর্মী নিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সেই নিয়োগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও অর্ডারই জারি করা হয়নি বলে অভিযোগ। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীপঙ্কর পিপলাই বলেন, ‘ঘোষণার পর এখনও পর্যন্ত কোনও অর্ডার জারি হয়নি। অর্ডার কবে জারি হবে, সেটাও জানা নেই।’
এর মধ্যেই চালকদের একটা অংশের চুক্তি তিন মাস অন্তর পুনর্নবীকরণের নোটিশ আসায় সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছেন নিগমের কর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই নিগমের অন্দরে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে নিগমের শ্রমিক সংগঠনগুলিও। বাম প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য তুফান ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘আগে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের সাত বছর অন্তর চুক্তি পুনর্নবীকরণ হত। পরবর্তীতে সেটা এক বছর অন্তর করে দেওয়া হল। সম্প্রতি নোটিশে দেখা গিয়েছে, তিরিশজন চালককে তিন মাস অন্তর চুক্তি পুনর্নবীকরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বাকি চালকদের ক্ষেত্রেও সেটা কার্যকর হবে। আসলে এভাবে ধীরে ধীরে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমকে পুরোপুরি বেসরকারিকরণে পরিবর্তন করে দেওয়া হচ্ছে। কর্মী নিয়োগের কথা গত পঁাচ বছরে একাধিকবার শুনেছি।’
নিগমের তৃণমূল প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সমীর সরকার বলেন, ‘তিন মাস অন্তর চুক্তি পুনর্নবীকরণের যে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে, সেটা কোনওভাবেই মানা হবে না। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। এই নির্দেশিকায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’ তিনি জানান, এই নির্দেশিকা বাতিল করার কথা জানানো হয়েছে নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে। তিনি বিষয়টা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
বছর পাঁচেক আগে স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক মিলিয়ে সমস্ত কর্মীর সংখ্যা নিগমে ছিল ৪২০০। ধীরে ধীরে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫০০-তে। এর মধ্যে চালক ও কনডাক্টরের সংখ্যা আরও কম। পরিস্থিতি এমনই হয়েছে যে, নতুন কোনও পরিকল্পনা নিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থায় কবে ১০০ জন কর্মী নিয়োগের অর্ডার জারি হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলে।
