‘মির্জাপুর’ সিরিজের নস্ট্যালজিয়া উসকে বড় পর্দায় কালীন ভাইয়া, মুন্না ত্রিপাঠিদের সঙ্গে গুড্ডু-বাবলু পণ্ডিতদের দ্বৈরথ জাস্ট ফাটাফাটি। প্রতিটি সিজন তো এমনিতেই দর্শকমহলে ব্যাপক হিট। তাই সিনেমা নিয়েও প্রত্যাশা ছিল একেবারে আকাশছোঁয়া। ‘মির্জাপুর দ্য মুভি’ কেমন হল সেই পর্যালোচনা করতে গিয়ে কোনওরকম গৌরচণ্ডিকা না করে নিঃসন্দেহে বলা যায়, সিরিজের জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে গিয়েছে ‘মির্জাপুর দ্য মুভি’। তিন ঘণ্টা সতেরো মিনিট একেবারে টানটান উত্তেজনা।
এখানেও সেই মির্জাপুরের সিংহাসন দখলের রক্তক্ষয়ী লড়াইকে কেন্দ্র করে অপরাধ জগতের গ্যাংস্টারদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী লড়াই। রাজনৈতিক হিংসা থেকে রক্তক্ষরণ, গুলিবর্ষণ, ষড়যন্ত্রের মাঝে হালকা যৌন সুরসুরি, মিষ্টি প্রেমকাহিনি আর অসমাপ্ত প্রেমের গল্পে ‘মির্জাপুর দ্য মুভি’ পয়সা উসুল ছবি। সিনেমার গল্প মির্জাপুর ছেড়ে পাড়ি দিয়েছে জয়সলমীরের ধু ধু মরুপ্রান্তরে। শুরুতেই একেবারে ফুরফুরে মেজাজেই চেনা ছন্দে দেখা গেল কালীন ভাইয়াকে। রমরমিয়ে চলছে অবৈধ ব্যবসাও।
আরও পড়ুন:

কিন্তু, মির্জাপুরের মসনদ দখল করতে জয়সলমীরের মাদক সম্রাট রবি কিষান ওরফে ‘বব্বান বাবুয়া’র ষড়যন্ত্রেই সমস্যার সূত্রপাত। ব্যাবসায়িক সঙ্গীর সঙ্গে প্রতারণা করে নিজের আখের গুছিয়ে ভাগলবা বাবুয়া। নিজের ব্যবসা যখন ফুলে ফেঁপে ওঠে তখন পরবর্তী লক্ষ্য মির্জাপুরের রাজপাট দখল। জয়সলমীরের মরুভূমিতে লুকিয়ে থাকা মাদক কালীন ভাইয়ার কাছে বিক্রি করে বিশ্বাস অর্জন করা প্রথম লক্ষ্য। এরপর মির্জাপুর সম্রাটকে ফাঁদে ফেলে বালিয়াড়িতে নিয়ে এসে আদর যত্ন করে বালির নীচেই সমাধিসস্থ করার মাস্টার প্ল্যান।

কিন্তু, কালীন ভাইয়ার বিশ্বস্ত সহযোগী গুড্ডু পণ্ডিত ও বাবলু পণ্ডিত থাকতে বব্বান বাবুয়ার এই ষড়যন্ত্র বানচাল। তবে এই পরিস্থিতিতে কালীন ভাইয়ার ছেলে মুন্নার সঙ্গে গুড্ডুর পুরনো শত্রুতা মিটে যায়। একসঙ্গে মির্জাপুরের ‘কিং’ কালীন ভাইয়াকে বব্বান বাবুয়ার কবল থেকে মুক্ত করতে ঝাপিয়ে পড়ে। চরিত্রগুলোর সঙ্গে দর্শক পূর্বপরিচিত। তবুও ক্ষমতার লড়াই, রাজনৈতিক চক্রান্ত সিনেমার প্রতি দর্শকের আকর্ষণ ধরে রেখেছে। ঝাঁ চকচকে ভিজ্যুয়ালগুলো দেখে নিশ্চিত, যথেষ্ট ব্যায়বহুল।
পঙ্কজ ত্রিপাঠি অর্থাৎ কালীন ভাইয়ার কথা আলাদা করে বলার অবকাশই রাখে না। গুড্ডুর চরিত্রে আলি ফজল এবারও অসাধারণ। দিব্যন্দু শর্মা অর্থাৎ মুন্নার চরিত্রেও বদল ঘটেনি। এখানেও সে বেপরোয়া। সিনেমায় অভিনীত প্রতিটি চরিত্র সিরিজের মতোই অত্যন্ত সাবলীল। তবে ‘মির্জাপুর দ্য মুভি’র নয়া সংযোজন রবি কিষানের চরিত্রের দুই ভিন্ন রূপ সত্যিই নজরকাড়া। গ্যাংস্টার বব্বান বাবুয়া যতটা রূঢ় প্রেমিকের চরিত্রে ঠিক ততটাই রোম্যান্টিক।

অ্যাকশনমুখর ছবিতে গুড্ডু, বাবলুর প্রেমটাও সিনেমার গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। রাজনীতি, অ্যাকশন, প্রেমের সঙ্গে কালীন ভাইয়ার স্ত্রীর জীবনের অসমাপ্ত প্রেমের গল্প যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, মনের মানুষ মনেই থেকে যায়, সারাজীবন আঁচলে বাঁধতে চাইলেই বাঁধা যায় না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
