Bus Terminus | খাদা পরিয়ে অভ্যর্থনা, পরিকল্পনা বাস টার্মিনাসে

শিক্ষা
Spread the love


নীতেশ বর্মন, শিলিগুড়ি: কেমন হবে যদি, পুজোর দিনগুলিতে কলকাতা-দিঘা বা দক্ষিণবঙ্গের কোনও জেলা থেকে আপনি এনবিএসটিসি-র বাসে চেপে জংশনের তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাসে নামলেন বা এনজেপি থেকে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাস ধরতে ঢুকলেন টার্মিনাসে (Bus Terminus), আর সেখানে আপনাকে খাদা পরিয়ে সংবর্ধনা জানানো হল? তারপর হয়তো দু’পা হাঁটলেই আপনার চোখে পড়ল কোচবিহারের শীতলপাটি, মালদার আমের আচার কিংবা স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির তৈরি নানা নকশার সামগ্রীর পসরা সাজানো স্টল।

হতে পারে আপনার খিদে পেয়েছে। পাশেই পেয়ে গেলেন একটি খাবারের সাজানো-গোছানো হোটেল। সেখানে গিয়ে দেখলেন উত্তরের লোকসংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত খাবারের ছোঁয়া রয়েছে। চেখে নিলেন শামুকের সবজি, শিদলের ফোকতই কিংবা পাহাড়ের ঝাল লংকা দিয়ে তৈরি কোনও সুপ, শেল রুটি এবং আরও নানা খাবারের সম্ভার। আপাতত পুজোর মরশুমের কথা মাথায় রেখে এমন ভাবনা রয়েছে। এই পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পরবর্তীকালে স্থায়ীভাবে এইসব পরিষেবা দেওয়ার ভাবনা রয়েছে।

রাজ্যের পর্যটন দপ্তরের তরফে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বারকে আরও চমকপ্রদ করতে তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাসের আমূল বদল করতে চাইছেন শংকর ঘোষ, যাতে বাস টার্মিনাসে পা দিলেই স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা তৈরি হতে পারে পর্যটকদের। পুজোর আগে গোটা পরিকল্পনার বাস্তবায়নে প্রস্তুতি চলছে বলে খবর। পর্যটনমন্ত্রী বলছেন, ‘আমরা চাই টার্মিনাসে পর্যটকদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়। দপ্তরের তরফে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা হচ্ছে।’

এ নিয়ে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমকে চিঠিও দিয়েছেন মন্ত্রী। চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করে নিগমের এক আধিকারিক বলেছেন, ‘উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি। সেই হিসাবে টার্মিনাসকে সাজানোর কথা। বেশকিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পরিবহণ দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে সেগুলি কীভাবে করা হবে, আলোচনা করব।’

পরিবহণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন বলেছেন, ‘দপ্তরের তরফে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা সাধ্যমতো সাহায্য করব।’

টার্মিনাসে নেমে অনেক সময় পর্যটকদের হয়রানির অভিযোগ ওঠে। সেকথা মাথায় রেখে বাস টার্মিনাসে হেল্প ডেস্ক খুলতে পারে পর্যটন দপ্তর। কোনও পর্যটক তাঁর নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়লে প্রয়োজনীয় গাড়ির ব্যবস্থাও টার্মিনাসের কর্মীদের মাধ্যমে করে দেওয়ার চেষ্টা হবে বলে চিন্তাভাবনা চলছে।

এদিকে যাত্রীদের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দিতে শুধু নিগমের বাস নয়, প্রয়োজনে ছোট গাড়ির ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এনবিএসটিসি। সেজন্য বেসরকারি গাড়ির মালিকদের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াও অনেকটা এগিয়েছে।

ইতিমধ্যে তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাসে যাত্রীদের কয়েক ঘণ্টা বা রাতে থাকার জন্য দুটি ঘর সাজানো হয়েছে। কোনও পর্যটক নির্দিষ্ট সময়ের আগে পৌঁছালে কিংবা বাস মিস করলে বা ভোরে বাস ধরতে রাতে থাকার প্রয়োজন হলে, সেই ঘরে থাকতে পারবেন। সেটা পেয়ে যাবেন সুলভমূল্যে। আগামী সপ্তাহে সেগুলির উদ্বোধন হতে পারে বলে নিগমের তরফে জানানো হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *