উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিপর্যয়ে প্রাথমিকভাবে বিদেশি সাহায্য না নেওয়ার অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হলো নেপাল (Nepal Flash Flood)। আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে পড়ে অবশেষে কাঠমান্ডু সরকার বাইরের দেশগুলিকে উদ্ধারের অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে। নেপালের এমন সিদ্ধান্তের পরই সেখানে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ভারত। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, নেপাল সরকারের সুনির্দিষ্ট অনুরোধের পরই নয়াদিল্লি এই মানবিক পদক্ষেপে সাড়া দিচ্ছে।
গত বুধবার নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশী নদীতে নেমে আসে ভয়াবহ হড়পা। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসা তীব্র জলের স্রোত এবং কাদার ঢল নিমেষে গ্রাস করে একাধিক গ্রাম। চোখের পলকে ভেসে যায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, যানবাহন এবং সাধারণ মানুষ। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫৭৯। শুধু তাই নয়, নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই বিপর্যয়ে শুধু স্থানীয়রাই নন, আটকে পড়েছেন বহু বিদেশি পর্যটক। জানা গিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যাদের অধিকাংশই কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে গিয়েছিলেন।
ঘটনার দিনই নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহকে (PM Balendra Shah) ফোনে সমবেদনা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) এবং সম্ভাব্য সবরকম সহায়তার আশ্বাস দেন। ভারতের পক্ষ থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হলেও প্রথমিক পর্যায়ে বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে দেশটিতে প্রবেশ করতে দেয়নি নেপাল। তাদের নিজেদের সেনাবাহিনী এবং পুলিশ প্রশাসনের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কথা জানিয়েছিল প্রশাসন। তবে নিখোঁজ নাগরিকদের নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক চাপ এবং ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকটের জেরে শেষ পর্যন্ত সুর নরম করতে বাধ্য হয় নেপাল (Nepal)।
ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকাজ সুচারুভাবে পরিচালনা করার জন্য প্রথমে একটি বিশেষ রেকি দল পাঠানো হবে। রণধীর জয়সওয়াল তাঁর বিবৃতিতে বলেন, “নেপালের অনুরোধে আমরা সেখানে একটা উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। তার জন্য আগে নেপালে যাবে একটা রেকি দল। তারা গিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে। কী কী সরঞ্জাম দরকার হবে, খতিয়ে দেখা হবে।” রেকি দলটি দুর্গম এলাকা ঘুরে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করার পর সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করবে, যার ভিত্তিতে ভারতের মূল উদ্ধারকারী ও বিশেষজ্ঞদের দল ঘটনাস্থলে রওনা দেবে।
উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের ওপরও বিশেষ জোর দিচ্ছে ভারত। নেপালের বর্তমান স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় একটি বিশেষ মেডিকেল টিমও পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম অবনতি রুখতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বেইলি ব্রিজ বা অস্থায়ী সেতু তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত সরকার। এর ফলে বিপর্যয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পাহাড়ি এলাকাগুলির সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

