উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভয়াবহ হড়পার তাণ্ডবে বিধ্বস্ত নেপাল (Nepal)। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ বেড়েই চলেছে হতাহতের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত এই বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯১ ছুঁয়েছে, যার মধ্যে নেপালেই প্রাণ হারিয়েছেন ৬৭৫ জন এবং তিব্বত অংশে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে (Dying Toll)। এখনও খোঁজ মেলেনি বহু মানুষের। এসবের মাঝেই ফের বিপর্যয়ের আশঙ্কা জারি হল নেপালে।
রবিবার ভোটেকোশী নদীর (Bhote Koshi River) জলস্তর হুহু করে বাড়ায় নতুন সতর্কবার্তা জারি করেছে নেপালের ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’ (Flood alert)। নদীতে তীব্র জলের গর্জন শোনার পরই রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও চিতওয়ানের নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সুরক্ষিত স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফে। অনুসন্ধান ও ত্রাণকাজে যুক্ত সমস্ত উদ্ধারকারী দলকেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
এদিকে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের এই চরম সংকটে পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে চতুর্থ ভারতীয় বিমানটি নেপালে পৌঁছেছে। মোট ১১ টন ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে উদ্ধারকাজের জন্য টানেল টেকনিক্যাল টিম, উদ্ধার সরঞ্জাম, ডিএনএ বিশ্লেষণের জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল ছাড়াও কম্বল, স্লিপিং ব্যাগ এবং স্বাস্থ্যকর কিট পাঠানো হয়েছে।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী একাধিক গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বহু সেতু ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ত্রাণ সরবরাহে বেগ পেতে হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষে দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন আশঙ্কা করছে, এখনও অনেক মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

