উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে চলা উত্তাল আন্দোলনের জট কি অবশেষে কাটতে চলেছে? বুধবার কেন্দ্রের তরফে অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলেছে। একদিকে যেমন সংসদে এই নিয়ে বিশদ আলোচনায় সম্মতি জানিয়েছে সরকার, তেমনই অন্যদিকে আন্দোলনকারী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের (NEET Govt CJP Assembly) সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। এই আলোচনার হাত ধরেই বরফ গলতে পারে বলে আশা রাজনৈতিক মহলের।
সরকারি সূত্রের খবর, প্রাথমিক আলোচনার পথ ধরে আজ ফের সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা। আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার, কঠোর আইন প্রণয়ন এবং ধৃতদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের পুনর্বিবেচনা। এই বৈঠক সফল হলে গত ২৫ দিন ধরে আমরণ অনশনে থাকা বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক তাঁর অনশন প্রত্যাহার করতে পারেন বলে খবর।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ অনশনে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সোনমকে প্রথমে সফদরজং এবং পরে আদালতের নির্দেশে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বুধবার তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতে হাসপাতালে যান মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। তবে CJP সাফ জানিয়ে দিয়েছে, প্রশাসনের তরফ থেকে লিখিত আশ্বাস না মিললে আন্দোলন পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে না।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিট কাণ্ডকে ‘মহাপাপ’ বলে অভিহিত করার পরই কিছুটা নমনীয় অবস্থান নেয় কেন্দ্র। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
অন্যদিকে, সরকারের আলোচনার প্রস্তাব সত্ত্বেও নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছে বিরোধী শিবির। বুধবার সংসদের মকর দ্বারের সামনে কালো পোশাক পরে অভিনব প্রতিবাদে শামিল হন বিরোধীরা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি, প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বঢ়রা, মল্লিকার্জুন খাড়গে, এবং সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র, সৌগত রায়ের মতো প্রবীণ সাংসদেরাও এই বিক্ষোভে অংশ নেন। তাঁদের সাফ দাবি, কেবল মৌখিক আলোচনা নয়, পরীক্ষা ব্যবস্থার চূড়ান্ত ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করে কেন্দ্রকে কার্যকরী পদক্ষেপ করতে হবে।
সবমিলিয়ে, একদিকে সরকারের সঙ্গে বৈঠকের টেবিল এবং অন্যদিকে সংসদ চত্বরে বিরোধীদের কালো কাপড়ের ধর্না—এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে রাজনৈতিক পারদ এখন চরমে। আজকের বৈঠকই নির্ধারণ করবে দেশের আগামী রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি।

