Narendra Modi | ‘আন্দাজ করুন কংগ্রেস কত আসনে জিতেছে?’, বিধান পরিষদ নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই উপহাস মোদির

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ইভিএম নয়, ভোট হোক ব্যালট পেপারে— দীর্ঘদিনের এই দাবিকে হাতিয়ার করে দেশজুড়ে সরব হয়েছিল কংগ্রেস সহ বিরোধী শিবির। কিন্তু ব্যালটে ভোট হলেও চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনের ভাল ফল করতে পারেনি কংগ্রেস।  আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। বুধবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসের এই দৈন্যদশা নিয়ে রীতিমতো উপহাস করেছেন। নিজের পোস্টে একটি মনোকল (এক চোখে চশমা) পরা ইমোজি ব্যবহার করেছেন তিনি, যা সাধারণত কৌতূহল, সংশয় বা ব্যঙ্গ প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়। মোদি তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘চার বড় রাজ্য মহারাষ্ট্র, বিহার,কর্নাটক ও উত্তরপ্রদেশে ২৮ আসনে বিধান পরিষদ নির্বাচন হয়েছে। ব্যালট পেপারেরই নির্বাচন করা হয়। আন্দাজ করুন কংগ্রেস কত আসনে জিতেছে?’

প্রধানমন্ত্রীর এই কটাক্ষের নেপথ্যে রয়েছে সদ্যসমাপ্ত বিধান পরিষদ নির্বাচনে কংগ্রেসের চরম ব্যর্থতা। ওই চারটি রাজ্যের ২৮টি আসনের মধ্যে ১২টিতে প্রার্থী দিয়েছিল হাত শিবির। কিন্তু ব্যালট পেপারে ভোট হওয়া সত্ত্বেও তাদের ঝুলিতে একটিও আসন আসেনি। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে কর্ণাটক থেকে। সেখানে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেস নিজেদের দখলে থাকা চারটি আসনই খুইয়েছে। এর মধ্যে বিরোধী দল জেডি (এস) একটি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে এবং তাদের জোটসঙ্গী বিজেপি তিনটি আসন ধরে রেখেছে।

গত ২৩ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের ৬টি শিক্ষক ও ৫টি স্নাতক কেন্দ্র, বিহারের ৪টি, কর্ণাটকের ২টি এবং মহারাষ্ট্রের ৩টি স্নাতক ও ২টি শিক্ষক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ভোটগণনা বেশ কিছু আসনে এখনও চলছে। মহারাষ্ট্রে বিজেপি-শাসিত মহায্যুতি জোট তিনটি আসনে এগিয়ে রয়েছে এবং বিরোধী এনসিপি (এসপি) দুটিতে। অন্যদিকে, বিহারে খাতা খুলেছে জন সুরাজ পার্টি। সেখানে বিজেপি, জেডি(ইউ), আরজেডি এবং একজন নির্দল প্রার্থী একটি করে আসন জিতেছে।

কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, ইভিএম-এ কারচুপি করে বিজেপি ফায়দা তুলছে, তাই আগামী সমস্ত নির্বাচন ব্যালট পেপারে হওয়া উচিত। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেও দেশজুড়ে বিক্ষোভে নেমেছে তারা। এমনকি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগেরও দাবি তোলা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত দশ মাসে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিভিন্ন সিদ্ধান্তে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী অন্তত ১৪ বার তাঁদের আপত্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড করেছেন। এই তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই এমএলসি নির্বাচনের ফল বিজেপির হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে। বিজেপি এবং তাদের শরিক দলের নেতারা দাবি করছেন, ব্যালটের ভোটে কংগ্রেসের এই শূন্য প্রাপ্তি তাদের ‘ভোট চুরি’-র মিথ্যা প্রচারকে সম্পূর্ণভাবে বেআব্রু করে দিয়েছে। বিজেপি নেতা সুধাংশু ত্রিবেদীও জোর দিয়ে জানিয়েছেন যে, ব্যালট পেপারের এই ফলাফল ইভিএম নিয়ে বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগকে সারবত্তাহীন প্রমাণ করল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *