অনুপ সাহা, ওদলাবাড়ি: নামেই শুধু সর্বজনীন নয়, আয়োজনেও সর্বজনীনতার ছোঁয়া এবারের দক্ষিণ ওদলাবাড়ির সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির পুজোয় (Durga Puja 2025)। ৩৭তম বর্ষের এই পুজো কমিটির সভাপতি পদে মনোনীত হয়েছেন একজন বৌদ্ধধর্মাবলম্বী, জেলর লামা। কোষাধ্যক্ষ পদে যুগ্মভাবে চিকিৎসক শক্তিনাথ রায়ের সঙ্গে রয়েছেন একজন শিখ সম্প্রদায়ের ধার্মিক মানুষ স্মরজিৎ সিং কুন্দন। পাড়ায় যিনি আবার মানিকদা নামে পরিচিত।
পুজো আয়োজনের ব্যস্ততার মাঝে বিষয়টির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বিষ্ণু বৈদ্য বলেন, পাড়ার পুজো। সকলের যোগদান ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে যাতে নির্বিঘ্নে শেষ করা যায়, সেদিকে খেয়াল রেখেই গত কয়েকবছর ধরে এমনভাবেই কমিটি তৈরি করা হচ্ছে। কমিটির আরেক যুগ্ম সম্পাদক মিঠু চন্দর কথায়, মানিকদা শুধুই যে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নিয়েছেন, তা কিন্তু একেবারেই নয়। পুজোর দিনগুলোতে শুদ্ধাচারে পুরোহিতের পাশে থেকে নিষ্ঠাভরে পুজো আয়োজনের সমস্ত প্রস্তুতিতেও তিনি গত কয়েকবছর ধরে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছেন।
এর বাইরে এ বছরের পুজো আয়োজনেও মণ্ডপসজ্জায় চমক থাকবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। দক্ষিণ ভারতীয় মন্দিরের আদলে ৪০ ফুট উঁচু ও ৫৫ ফুট চওড়া মণ্ডপটি তৈরি হচ্ছে কাপড়, ফোম, বাতা, ফাইবার ইত্যাদি দিয়ে। স্থানীয় ডেকোরেটার প্রীতম দাস মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে রয়েছেন। প্রীতম জানালেন, ইতিমধ্যে ১০ জনের শিল্পীর দল মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরের কাজ শুরু করে দিয়েছে। জয় নন্দীর আলোকসজ্জা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে বলে বিশ্বাস আয়োজকদের।
এই পুজোর দায়িত্বপ্রাপ্ত পুরোহিত প্রলয় ভট্টাচার্য আবার পেশাগতভাবে একজন মৃৎশিল্পী। তাঁরই শিল্পালয়ে কুমোরটুলি থেকে আসা দুজন শিল্পী দেবী প্রতিমা তৈরি করছেন।
পুজোয় দুঃস্থদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণ করা হবে। প্রসাদ বিতরণ করা হবে প্রতিদিন। তিনদিন ধরে স্থানীয় ও বহিরাগত শিল্পী সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া সমাজসচেতনতামূলক বিভিন্ন বার্তা পুজো কমিটির তরফে তুলে ধরা হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
