Hasimara | হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটির ছবি তুলে ধৃত চিকিৎসক, গোয়েন্দা নজরে আন্তর্জাতিক যোগসূত্র!

Hasimara | হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটির ছবি তুলে ধৃত চিকিৎসক, গোয়েন্দা নজরে আন্তর্জাতিক যোগসূত্র!

শিক্ষা
Spread the love


হাসিমারা: রাতের অন্ধকারে হাসিমারা (Hasimara) বায়ুসেনা ঘাঁটির গেটের সামনে সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ছবি ও ভিডিও তুলছিলেন এক তরুণ। ৩১ সি জাতীয় সড়ক সংলগ্ন বায়ুসেনা ঘাঁটির মূল প্রবেশপথের সামনে দাঁড়িয়ে সন্দেহজনকভাবে মোবাইল ফোনে ছবি, ভিডিও তোলার বিষয়টি তৎক্ষণাৎ কর্তব্যরত বায়ুসেনার নিরাপত্তা আধিকারিকদের নজরে আসে। তরুণকে দ্রুত ধরে বায়ুসেনা কর্তৃপক্ষ হাসিমারা পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে দেয়। পুলিশে অভিযোগ জানানো হয় বায়ুসেনা কর্তৃপক্ষের তরফে। পুলিশ ওই তরুণকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মানব চন্দ (২৮) নামে ওই তরুণ কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ওই তরুণ নিজেকে এমবিবিএস চিকিৎসক বলে দাবি করেছেন পুলিশের কাছে। পুলিশের একটি সূত্রের খবর, ধৃতের কাছ থেকে সাতটি মোবাইল ফোনের সিম ও তিনটি মোবাইল ফোন পাওয়া গিয়েছে। ফোন ও সিম বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই তরুণ নাকি বাংলাদেশে একাধিক নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ কল করতেন। এতেই উদ্বিগ্ন জেলা পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।

মঙ্গলবার রাত ৯টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। বুধবার ধৃতকে আলিপুরদুয়ার কোর্টে (Alipurduar Courtroom) তোলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ধৃতকে ১০ দিনের পুলিশ হেপাজতে নেওয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ এলাকায় এসে ওই তরুণ রাতের অন্ধকারে কেন ছবি, ভিডিও তুলেছিলেন, ঘটনার সঙ্গে কোনও জঙ্গি সংগঠনের যোগ রয়েছে কি না, সবটাই তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিতকুমার সাউ ফোন না ধারায় এই বিষয়ে তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ওই তরুণ একাই একটি স্কুটারে এসেছিলেন। যে এলাকার ছবি ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন ওই তরুণ সেই এলাকায় বায়ুসেনার প্রবেশপথ ছাড়াও বায়ুসেনার উচ্চ আধিকারিকদের বাসস্থান রয়েছে। সামনে বড় বড় হরফে এলাকার ছবি তোলা ও বিনা অনুমতিতে গেটের ভেতরে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলে নোটিশ ঝোলানো রয়েছে। ওই গেটের সামনে ২৪ ঘণ্টা কড়া পাহারা রয়েছে। এমনকি বিনা অনুমতিতে কেউ প্রবেশ করলে বায়ুসেনার তরফে গুলি চালানোর সতর্কবার্তা রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওই বায়ুসেনা ঘাঁটি। সেখানে একাধিক রাফাল যুদ্ধবিমান রয়েছে। তাই সেখানে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ওই তরুণ তুফানগঞ্জের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ধরের মোড় এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। ২০২৩ সালে তিনি এমবিবিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তুফানগঞ্জে তিনি রোগী দেখার পাশাপাশি আলিপুরদুয়ারে একটি নার্সিংহোমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে মাসখানেক ধরে ওই নার্সিংহোমে তাঁকে দেখা যায়নি। তিনি অবিবাহিত। তরুণের পরিবারের দাবি, ওই তরুণ তুফানগঞ্জেও কিছুদিন ধরে রোগী দেখছেন না। কিছুটা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি।

তুফানগঞ্জ থেকে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার দূরে স্কুটার নিয়ে তরুণ কী করতে হাসিমারায় গিয়েছিলেন এবং বায়ুসেনা ঘঁাটির ছবি ও ভিডিও তুলছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃত তরুণের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখছে পুলিশ। গত বছরের ৯ মে আলিপুরদুয়ারের এক তরুণ সংশ্লিষ্ট বায়ুসেনা ঘাঁটির সীমানা প্রাচীর ঘেঁষা একটি গাছে উঠে ঘাঁটির ভেতরে উঁকি মারছিলেন। তখনও বায়ুসেনা কর্তৃপক্ষের তরফে ওই তরুণকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *