উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) ছেড়ে যাওয়া নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর (Nandigram and Rejinagar MLA’s Oath) উপনির্বাচনে জয়লাভ করা দুই নতুন বিধায়ক—হাসিরানি রথ ও শাখারভ সরকার বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণ করলেন। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু দুই বিধায়ককে শপথবাক্য পাঠ করান। এই জয়ের ফলে বিধানসভায় বিজেপির মোট আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০৯-এ এসে দাঁড়িয়েছে। পুজো মিটতেই বিধানসভায় আয়োজিত এই বিশেষ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দুই নবনির্বাচিত বিধায়ককে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তাঁদের শুভকামনা জানিয়েছেন তিনি। বিধানসভার নতুন সদস্য হিসেবে হাসিরানি ও শাখারভকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও বিজয়ার শুভেচ্ছা বার্তা জ্ঞাপন করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিধানসভার অন্দরে দাঁড়িয়ে নন্দীগ্রাম (Nandigram) ও রেজিনগরের (Rejinagar) বিজয়ী বিধায়কদের অভিনন্দন জানিয়ে একটি বিশেষ বক্তব্য পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, বিজেপিকে রাজনৈতিক মহলে একাংশের তরফে ‘সংখ্যালঘু-বিরোধী’ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ার তত্ত্বকে কড়া ভাষায় খারিজ করে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন, “অনেকেই বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক পার্টি বলে রাজনীতি করে খেয়েছেন। তাঁদের উদ্দেশে বলছি, রেজিনগরে ৭০ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনায় উপকৃত, তাদের মধ্যে ৩৫ হাজার মহিলাই সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য। আমরা হিন্দু, সনাতনী, কপালে টিকা ধারণ করি। কিন্তু সরকার চালানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনকে প্রাধান্য দেয় বিজেপি। রেজিনগরে ৩০০-এর মধ্যে ২০০ টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথ। সেই রেজিনগরে ৭৫ হাজার মার্জিনে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের জয়।” তিনি আরও বলেন, “৬ মাসের মধ্যেই সরকার মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে এগোচ্ছে সেটা স্পষ্ট। এই ৬ মাসে যা দেখছেন, তা চা-বিস্কুটের সমান। এখনও ব্রেকফাস্ট লাঞ্চ বাকি। দেখতে থাকুন কীভাবে উন্নয়ন হয়।”
রেজিনগরের পাশাপাশি নন্দীগ্রামের জয়ী প্রার্থী হাসিরানি রথকে অভিনন্দন জানানোর সময় নন্দীগ্রামের আসনটি ছেড়ে আসার নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও বিধানসভাতেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের আসন ছেড়ে আসায় সেখানকার অনেকেই আমার উপর অভিমান করেছিলেন, তাদের আমি বুঝিয়ে এসেছি। আজ আবারও বলছি, আমি ভবানীপুর ছাড়লে এর আগে যাঁকে দু’বার হারিয়েছি, তিনি আবার ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেতেন। সেই সুযোগ না দেওয়াই ভালো। অনেক বয়স হয়েছে, এই বয়সে বিশ্রাম নেওয়ার কথা। তাই নন্দীগ্রাম ছাড়তে হয়েছিল আমাকে, ওই আসনে ১ লক্ষ ২২ হাজার ভোটে হাসিরানি রথকে জিতিয়ে পাঠিয়েছেন নন্দীগ্রামের মানুষ। আমি আমার প্রতিশ্রুতি পূরণ করব হাসিরানি রথের মাধ্যমে।” একইসঙ্গে গত ছাব্বিশের নির্বাচনের ঠিক কয়েকের মধ্যেই তাঁর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গটি তুলে ধরে শুভেন্দু চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমার সহযোগী হওয়ার অপরাধে চন্দ্রনাথকে খুন করা হল। শুটার, সুপারি কিলার সহ সিবিআই ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন। বাকি আছে সুপারির ২ কোটি কোথা থেকে এসেছিল, সেটা জানা। ক্যামাক স্ট্রিট, কালীঘাট, না ডায়মন্ড হারবার? এটা জানতে পারলেই তদন্তের বৃত্ত সম্পন্ন হবে।”

