উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : প্রকৃতি যখন তার রুদ্ররূপ ধারণ করে, তখন মানুষের গড়া সভ্যতা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। মাত্র ৬০ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি দানবীয় ভূকম্পন বা ‘টুইন আর্থকোয়েক’ (Twin Earthquakes) লণ্ডভণ্ড করে দিল লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলাকে (Venezuela Earthquake 2026)। গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের ইতিহাসে দেশটির বুকে নেমে আসা এটিই সবচেয়ে বড় ভূতাত্ত্বিক বিপর্যয়। বুধবার সন্ধ্যায় যখন মানুষ দৈনন্দিন কাজ শেষ করে ঘরে ফিরছিল, ঠিক তখনই পরপর দুটি তীব্র আঘাতে কেঁপে ওঠে পুরো দেশ, যার রেশ এখনো কাটেনি।
ভূতাত্ত্বিক পরিভাষায় এই ধরনের পরপর বড় কম্পনকে অত্যন্ত বিপজ্জনক মনে করা হয়। প্রথম ধাক্কাটি আসে ৭.২ তীব্রতার ম্যাগনিটিউড নিয়ে, যার উৎস ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে মাত্র ১৬৮ কিলোমিটার দূরে মোরন (Moron) অঞ্চলের ২২ কিলোমিটার গভীরে। মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই, ঠিক তার এক মিনিট পর আঘাত হানে দ্বিতীয় এবং আরও শক্তিশালী ৭.৫ তীব্রতার আরেকটি ভূমিকম্প। এটির গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার, যা মাটির উপরিভাগে ধ্বংসযজ্ঞের তীব্রতা বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। স্বল্প গভীরতার (Shallow Depth) কারণে এই জোড়া ভূমিকম্পে মূহূর্তের মধ্যে শত শত বহুতল ভবন, রাস্তাঘাট এবং অবকাঠামো ধসে পড়ে। ধুলোর চাদরে ঢেকে যায় পুরো এলাকা।
প্রাথমিক সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৩৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১,৫০০-রও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা আরও অনেক বেশি। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) তাদের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই জোড়া আঘাতের ক্ষয়ক্ষতি অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, এই দূর্যোগে নিহতের সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ১০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ (Delcy Rodriguez) অনতিবিলম্বে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল ও সেনাবাহিনীর বিশেষ স্কোয়াড পাঠানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার মানুষ আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার ফলে সময়ের সাথে সাথে মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে পারে। কারাকাসসহ দেশের বড় শহরগুলোতে এখনো আফটারশক বা অনুকম্পনের আতঙ্কে মানুষ ঘরের বাইরে রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন। শতাব্দীসেরা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ভেনেজুয়েলা কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

