তমালিকা দে, শিলিগুড়ি: ১২৫ বছরের গৌরবময় পথ চলা। কালিম্পংয়ের (Kalimpong) ডঃ গ্রাহামস হোমসের সুনাম দারুণ। পড়ুয়ারা পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে নাচ–গান, নাটক সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শামিল হয়। স্কুলে নাট্যচর্চার ইতিহাসটা বেশ পুরোনো। তবে এতদিন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দি ও নেপালিতে নাটক হলেও বাংলায় কোনওদিন তা মঞ্চস্থ হয়নি। এবারে সেই অভাব মিটছে। রবীন্দ্র জয়ন্তীর প্রাক্কালে ৮ মে’র দুপুরে নাট্যশিল্পী রত্না ঘোষালের নির্দেশনায় স্কুলের অডিটোরিয়ামে বাংলায় তিনটি নাটক মঞ্চস্থ হবে। নাটক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে কবিগুরুরই লেখা ‘রোগের চিকিৎসা’, ‘রোগীর বন্ধু’ ও ‘অভ্যর্থনা’। আপাতত জোরকদমে রিহার্সাল চলছে। পড়ুয়াদের পাশাপাশি শিক্ষক–শিক্ষিকারাও দারুণ উজ্জীবিত।
গোটা দেশে মোট ১৬০টি অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান স্কুলের মধ্যে চতুর্থ হিসেবে এই স্কুলটি ‘দ্য অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান হল অফ ফেম’-এ রয়েছে। এখানে সন্তানদের পড়ানোর জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি দেশের বাইরে থাকা অভিভাবকদের মধ্যেও সমান আগ্রহ দেখা যায়। সাহেবি কেতায় যেখানে পড়ুয়াদের গড়ে তোলাটাই দস্তুর সেখানে এবারে বাংলায় নাটক করার সিদ্ধান্তে কেউ কেউ অবাক হয়েছেন। তাঁদের উদ্দেশে প্রধান শিক্ষিকা জিনা রাঘবনের বার্তা, ‘অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমি দক্ষিণ ভারতীয় হলেও বাংলা সাহিত্য পড়তে ভালোবাসি।’ নিজের সেই ভালোবাসাকেই স্কুলের সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এবারে স্কুলে বাংলায় নাটক মঞ্চস্থ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সূত্রেই নাট্যশিল্পী রত্নার এখানে এসে জোরকদমে রিহার্সাল শুরু করা। প্রাইমারি থেকে হাইস্কুলের পড়ুয়ারা সাগ্রহে ৪ এপ্রিল থেকে এই বিশেষ ওয়ার্কশপে যোগ দেয়।
‘রোগের চিকিৎসা’ নাটকে হারাধন চরিত্রে নবম শ্রেণির ছাত্রী ঈশানী সাহা রয়েছে। ‘রোগীর বন্ধু’ নাটকটিতে বৈদ্যনাথের চরিত্রে
স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র অনিরুদ্ধ মণ্ডল, দুখিরামের চরিত্রে দশম শ্রেণির মৃদুলা পাল আপাতত জোরদার অনুশীলনে ব্যস্ত। বাঙালি পড়ুয়া তো বটেই, নাটকগুলিতে অবাঙালি পড়ুয়াদেরও যুক্ত করা হয়েছে। অসুবিধে হচ্ছে না? রত্না বললেন, ‘সব সমস্যার সমাধান আছে। এই অবাঙালি পড়ুয়াদের প্রথম তিন-চারদিন শুধু বাংলা উচ্চারণ শেখানো হয়েছে। তারপর স্ক্রিপ্ট পড়তে দেওয়া ও ধীরে ধীরে অভিনয় শেখানো হয়েছে।’
