রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : পুলিশ আইনের রক্ষক। মানুষ আইন ভঙ্গ করলে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু সেই পুলিশই যদি আইন ভাঙে, তাহলে? নকশালবাড়ি থানার বড়বাবুর (ওসি) কাণ্ডকারখানা নিয়ে তেমনই প্রশ্ন উঠেছে। তিনি রীতিমতো নতুন গাড়ি নিয়ে তাতে নীলবাতি লাগিয়ে সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ। যা দেখে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ নকশালবাড়ির বাসিন্দাদের। এতদিন এত ওসি এসেছেন, গিয়েছেন কেউই এভাবে গাড়িতে নীলবাতি লাগিয়ে ঘোরেননি। প্রশ্ন উঠছে, থানার ওসির দায়িত্বে থাকা একজন সাব-ইনস্পেকটর পদমর্যাদার পুলিশকর্মী কি গাড়িতে নীলবাতি ব্যবহার করতে পারেন? আইন বলছে, ন্যূনতম ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডেন্ট (ডিএসপি) পদমর্যাদার পুলিশ অফিসার হলে গাড়িতে ফ্ল্যাশার যুক্ত নীলবাতির ব্যবহার করা যায়। নকশালবাড়ি থানার ওসি তাহলে কোন ক্ষমতাবলে এসব করছেন সেই প্রশ্ন উঠছে।
দার্জিলিং জেলা পুলিশের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) আশিস কুমার বলেছেন, ‘থানার ওসির গাড়ির মাথায় নীলবাতি আছে? হয়তো ভাড়ায় নেওয়া গাড়িতে আগে থেকেই নীলবাতি লাগানো ছিল। সেটা খোলা হয়নি। আমি খোঁজ নিচ্ছি।’ নকশালবাড়ি থানার ওসি পুলক রায়ের সঙ্গে একাধিকবার টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁকে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কয়েক দফায় ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নকশালবাড়ি থানায় ওয়াসিম বারি নতুন ওসি হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি নকশালবাড়ির মানুষের কাছে ভালো মানুষ হয়ে উঠেছিলেন। কেননা বালি, গোরু পাচার থেকে শুরু করে মাদকের কারবার কোনও বেআইনি কাজই তিনি মেনে নেননি। পাচারকারীরাও তাঁকে কোনওভাবে মানাতে পারেনি। কোনও বেআইনি কাজ নজরে এলেই তিনি একের পর এক মামলা রুজু করেছেন। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। তাঁর এই কাজকর্মে সাধারণ মানুষ বাহবা দিলেও হয়তো কারও কারও সমস্যা হচ্ছিল। কেননা নকশালবাড়িকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন যে লক্ষ লক্ষ টাকার বেআইনি কারবার হয়, বড়বাবু ওয়াসিম বারি সেটা অনেকটাই কঠোর হাতে আটকে দিয়েছিলেন।
গত ২৩ জুলাই জেলা পুলিশের তরফে বদলি করা হয় ওয়াসিম বারিকে। তাঁকে নকশালবাড়ি থানার বড়বাবুর পদ থেকে সরিয়ে দার্জিলিং সদর থানায় পাঠানো হয়। নকশালবাড়ি থানার নতুন ওসি হয়েছেন পুলক রায়। তিনি সদর থানায় সাব-ইনস্পেকটর হিসাবে কর্মরত ছিলেন। শাসকদলের এক প্রভাবশালী নেতার ইচ্ছেতেই সিলমোহর দিয়ে এই বদলির নির্দেশিকা জারি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। অভিযোগ, পুলক রায় নকশালবাড়ির ওসি হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই থানায় একটি নতুন গাড়ি ভাড়ায় নেওয়া হয়েছে। সেই গাড়িতে নীলবাতি লাগানো হয়েছে। গাড়িতে ‘ওসি নকশালবাড়ি’ বোর্ডও দেওয়া রয়েছে। মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ অবশ্য বলেছেন, ‘কোন থানায় কে ওসি, আইসি হবেন এটা পুরোটাই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তারা ঠিক করেন। এটা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। একজন ওসি গাড়িতে নীলবাতি ব্যবহার করতে পারেন কি না সেটাও জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় কথা বলব।’
