কিশনগঞ্জ: প্রেমের পরিণতির বদলে জুটল মৃত্যু। বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় ২০ বছরের প্রেমিকা তজল্লি প্রবীণকে নির্মমভাবে খুন করার অভিযোগে প্রেমিক মহম্মদ ফইজান আলমকে (২৩) গ্রেপ্তার (Kishanganj lover arrested) করল কিশনগঞ্জ জেলা পুলিশ। গত ৫ ফেব্রুয়ারি চুনাভারি গ্রামের একটি বাঁশঝাড় থেকে তরুণীর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল।
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, চুনাভারি গ্রামের বাসিন্দা তজল্লি প্রবীণের সঙ্গে ফইজানের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তজল্লি বারবার ফইজানকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু ফইজান বিয়েতে রাজি ছিল না। অভিযোগ, গত সপ্তাহে পরিকল্পনা মাফিক তজল্লিকে নির্জন বাঁশঝাড়ে ডেকে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে ফইজান। খুনের পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মৃতদেহ সেখানেই ফেলে রেখে চম্পট দেয় সে।
মৃতার বাবা মহম্মদ তসলিমের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে কিশনগঞ্জের পুলিশ সুপার সন্তোষ কুমার একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স (SIT) গঠন করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, ধৃত ফইজানের কাছে তজল্লির একটি মোবাইল ফোন রয়েছে। ওই মোবাইলে দুজনের কিছু বিশেষ মুহূর্তের আপত্তিকর ভিডিও ছিল। অভিযোগ, তজল্লি হুমকি দিয়েছিলেন যে ফইজান বিয়ে না করলে তিনি ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেবেন। এই প্রতিহিংসা থেকেই ফইজান তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করে।
মঙ্গলবার সকালে পুলিশ অভিযুক্ত ফইজানকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে মৃতার মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। কিশনগঞ্জের পুলিশ সুপার জানান, ধৃত ফইজান খুনের কথা স্বীকার করেছে। মঙ্গলবার বিকেলেই কিশনগঞ্জ আদালতের নির্দেশে তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
