Nahid Islam Helps CJP Protest | দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনার বিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন ঢাকার! এবার সিজেপির পাশে বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলেনের নেতা নাহিদ ইসলাম

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ বাংলাদেশের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান ও শেখ হাসিনা সরকারের পতনের অন্যতম মূল রূপকার তথা ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (NCP) নেতা নাহিদ ইসলামের এক সুদীর্ঘ সমাজমাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে চরম রাজনৈতিক শোরগোল তৈরি হয়েছে (Nahid Islam Helps CJP Protest)। ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) ডাকা বিক্ষোভ আন্দোলনের সমর্থনে বার্তা দিয়েছেন এই বাংলাদেশি নেতা। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং দিল্লির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ঢাকা থেকে সমর্থন জানিয়ে তিনি ভারতকে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের তোপ দাগিয়েছেন, যা নিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক মহলেই ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরের উদ্দেশ্যে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ রাজধানীর রাস্তায় বিশাল ব্যারিকেড গড়ে আন্দোলনকারীদের গতিরোধ করে। ঘটনার জেরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি হয়। পুলিশ আন্দোলনকারী সংগঠক ও সমর্থকদের দমন করতে প্রায় তিন হাজার জনকে আটক করে এবং পরে ছেড়ে দেয়। ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িক বন্ধ রাখা ও সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে আজ পুনরায় নতুন কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি।

দিল্লির এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) ও ফেসবুক হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ বিবৃতি পোস্ট করেছেন বাংলাদেশের কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রধান মুখ নাহিদ ইসলাম। সিজেপির আন্দোলনকারীদের সমর্থনে তিনি লেখেন:

“নির্বাচনী ব্যবস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো এবং নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করা ভারতের তরুণ-তরুণীদের পাশে আমরা ঢাকা থেকে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি। নয়া দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী, সংগঠক এবং সাংবাদিকদের আটক করা ও ইন্টারনেট বন্ধ রাখা মৌলিক স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।”

বাংলাদেশের চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি উসকে দিয়ে নাহিদ দাবি করেন, বাংলাদেশে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসন উৎখাতের সময় যেভাবে ভারতের ছাত্রসমাজ ও প্রগতিশীল স্বাধীন কণ্ঠস্বর তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিল, আজ ঢাকা থেকেও তাঁরা ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশে সহযোদ্ধা হিসেবে দাঁড়াচ্ছেন।

দীর্ঘ এই বার্তায় কেবল সাম্প্রতিক দিল্লির আন্দোলনই নয়, ভারতের একাধিক সংবেদনশীল ও বিতর্কিত রাজনৈতিক বিষয়ে নিজের মত প্রকাশ করেছেন নাহিদ ইসলাম। দিল্লির তীব্র শীতের মধ্যে শাহিনবাগের সিএএ-বিরোধী (CAA) মহিলা আন্দোলনকারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করার পাশাপাশি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহ্যকে ভারতের অমূল্য সম্পদ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

দীর্ঘ পোস্টে নাহিদ ইসলাম ভারতের জেলবন্দি বিতর্কিত আন্দোলনকারী উমর খালিদ ও শার্জিল ইমামের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, বিচার ছাড়া বছরের পর বছর ধরে তাঁদের বন্দি রাখা হয়েছে এবং তাঁরা দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।

হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদ, ফ্যাসিবাদ ও ধর্মীয় বৈষম্যের তীব্র সমালোচনা করে নাহিদ জানান, যে সমাজে সংখ্যালঘুরা ভয়ের মধ্যে থাকেন বা পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব ঠিক হয়, তা প্রকৃত গণতন্ত্র হতে পারে না।

ভারত সরকারের কাছে আন্দোলনকারীদের ওপর দমনপীড়ন বন্ধের আর্জির পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, তিস্তা জলবণ্টন এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের মতো অমীমাংসিত বিষয়ে ভারতকে সমমর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনায় বসার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সেদেশের এক শীর্ষ যুবনেতার ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আন্দোলনে সরাসরি এভাবে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া ও সমর্থন জানানোকে কূটনৈতিক এবং প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *