নাগরাকাটা: যা ফসল ফলে তার বেশিরভাগই যায় হাতির পেটে। ফলে চাষবাস করা ছেড়েই দিয়েছেন স্থানীয়রা। এই পরিস্থিতিতে নাগরাকাটার (Nagrakata) আংরাভাসা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কলাবাড়ির বাঁধ লাইনের দুঃস্থ পরিবারগুলিকে বিকল্প আয়ের পথ দেখাতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে আসরে নামলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষক আশিষ কুমার রায়। বিশ্ব আদিবাসী দিবসের দিন রবিবার তিনি সেখানে গিয়ে গ্রামের ২০ টি পরিবারকে ড্রাগন ফল (Dragon Fruit) চাষ করার কৌশল হাতে কলমে শিখিয়ে দিয়ে এলেন। শুধু তাই নয়, নিজের খরচে ড্রাগন ফলের উন্নত মানের চারা সহ ছত্রাকনাশক প্রয়োজনীয় রাসায়নিকও দিয়ে আসেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে শিলিগুড়ির নরসিংহ বিদ্যাপীঠের জীবন বিজ্ঞানের ওই শিক্ষক বলেন, “বছর দেড়েক পর থেকেই গাছে ফল আসা শুরু করবে। এটা হাতির খাদ্য তালিকার বাইরে। পাশাপাশি দারুণ অর্থকরীও। বাজারে চাহিদাও ভালো। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে কৃষকরা যে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হবেন, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। ওঁদের সাথে সারা বছর ধরেই থাকব।”
আশিষ বাবু একটা সময় ওই প্রান্তিক এলাকার কলাবাড়ি টিই হাইস্কুলে শিক্ষকতা করতেন। ১৫ বছর সেখানে কাজ করার সুবাদে কলাবাড়ি সহ লাগোয়া এলাকার সমস্যা তাঁর জানা। এই এলাকা লাগোয়া ডায়না জঙ্গলের হাতির (Elephant) উপদ্রবে বিস্তীর্ণ তল্লাটের রুটি রুজি বিপন্ন হবার পাশাপাশি প্রতি রাতেই প্রাণ হাতে করে জীবন কাটাতে হয় সেখানে। শিক্ষায় ব্যতিক্রমী কাজের সুবাদে ২০২৪ সালে রাষ্ট্রপতি পুরষ্কার প্রাপ্ত ওই শিক্ষক বলেন, “আপাতত ছোট পরিসরে কাজ শুরু হল। ইচ্ছে আছে এলাকার অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করে এই কর্মসূচীকে আরও বড় করার।”
এই বিষয়ে টুনু মুন্ডা, সাওন কুজুর, মুন্না মুন্ডা, গৌতম দর্জির মত স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, শিলিগুড়ি থেকে ছুটে এসে আশিষ স্যার যেভাবে আমাদের সমস্যা সমাধানের জন্য এগিয়ে এসেছেন, তার জন্য কোন প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। তাঁর এই উদ্যোগে সবাই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সামিল হয়েছে। আমরাও লেগে থাকব।

