উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: উত্তর-পূর্ব মিয়ানমারের শান প্রদেশে (Shan Province) একটি জেলিগনাইট (বিস্ফোরক) বোঝাই গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে (Myanmar Explosion)। এতে অন্তত ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৭০ জনেরও বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন নারী এবং ৩০ জন পুরুষ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
রবিবার চীন সীমান্তবর্তী শান প্রদেশের নামখাম (Namkham) জেলার কাওংটাট গ্রামে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, ঘন জনবসতিপূর্ণ এই এলাকার একটি বড় পাথর খনির পাশেই ছিল বিস্ফোরক বোঝাই ওই গুদামটি। সেখানে পাথর ভাঙার কাজের জন্য বিপুল পরিমাণ জেলিগনাইট মজুত করে রাখা ছিল।
দুপুরের দিকে আকস্মিকভাবে ওই গুদামে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে একটি বিশাল আগুনের গোলা ছিটকে বের হয় এবং তারপরেই প্রবল শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, প্রাথমিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দারা এটিকে সামরিক বাহিনীর ‘বিমান হামলা’ বলে ভুল করেছিলেন। পরে জানা যায়, এটি কোনো হামলা নয়, বরং দুর্ঘটনাবশত গুদামে থাকা বিস্ফোরক ফেটেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে জেলিগনাইট মজুত রাখার ফলে সৃষ্ট রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকেই এই বিস্ফোরণ।
এই শক্তিশালী বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের অন্তত ১০০টি বাড়িঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বেশ কয়েকটি পাড়া। ঘটনার পরপরই আতঙ্ক ও স্বজন হারানোর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং শুরু হয় উদ্ধারকাজ। সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক শ গ্রামবাসীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমানে এই এলাকাটি মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘তা-আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি’ (TNLA)-র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২১ সালে অং সান সু চি-কে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক জুন্টা বাহিনী দেশের ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে। ২০২৩ সালের শেষের দিকে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে নামখামসহ আশপাশের বেশ কিছু অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয় টিএনএলএ। পরবর্তীতে চীনের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও এলাকায় উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটল। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহী গোষ্ঠী পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।
