উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: যুদ্ধকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে শান্তিচুক্তির আলোচনা, বর্তমানে ইরানের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছে দেশটির ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ বা আইআরজিসি (IRGC)। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, সেনার এই লাগামহীন স্বেচ্ছাচারিতায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ ও হতাশ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর রূপ নিয়েছে যে, তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পর্যন্ত পাঠিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তবে এই দাবিকে পুরোপুরি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান সরকার।
সম্প্রতি ব্রিটেনের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আইআরজিসি-র বিরুদ্ধে একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগ এনে খামেনেইয়ের কাছে ইস্তফা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ান। প্রতিবেদনে বলা হয়, পেজেস্কিয়ানের অভিযোগ—আইআরজিসি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারকে এড়িয়ে সমান্তরালভাবে নিজেদের সিদ্ধান্ত কার্যকর করছে। দিনের পর দিন চলে আসা এই প্রশাসনিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে আইআরজিসির ভেতরে থাকা চরম কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং ক্রমশ গোটা দেশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে। সামরিক বাহিনীর এই অতিরিক্ত খবরদারির কারণে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের আইনি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই তিনি পদত্যাগ করতে চান।
বিদেশি সংবাদমাধ্যমের এই বিস্ফোরক দাবি খবরের শিরোনামে আসতেই তা শক্ত হাতে প্রতিহত করেছে তেহরান। ইরানের সরকারি সূত্রের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করেননি এবং এই কঠিন সময়েও তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
পাশাপাশি, এই বিতর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের যোগাযোগ ও তথ্য বিভাগের উপ-প্রধান সৈয়দ মেহেদি তাবাতাবাই। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কিছু কুখ্যাত বিদেশি নেটওয়ার্কের কাজই হলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব রটানো। শুরু থেকেই তারা এমন বহু অবাস্তব ও হাস্যকর দাবি করে আসছে, যার কোনো ভিত্তি নেই। এগুলো বাস্তবতার পরিবর্তে তাদের নিজেদের মনগড়া কল্পনা মাত্র।”
তাবাতাবাই আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ান ইরানের জাতীয় সংহতি, প্রতিরোধ ও জনগণের সেবা করার পথ থেকে একচুলও সরে আসবেন না। যারা ইরানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও স্থিতিশীলতা ভেঙে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে, শেষ পর্যন্ত তাদের কবরে ঠাঁই হবে।
