চালসা: প্রশাসনের নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পাহাড়ি মূর্তি নদীর (Murti) বুকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন একদল বেপরোয়া তরুণ। নদীর চরে চলছে বাইক নিয়ে ‘স্টান্টবাজি’ (Stunt Biking)। যে এলাকায় নদীতে নামা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, সেই সংরক্ষিত অঞ্চলে নির্বিঘ্নে পৌঁছে যাচ্ছে বাইক। চলছে অবাধে স্নান। এমনকি ওই তরুণরা প্রকাশ্যে মদ্যপান করছেন বলেও অভিযোগ উঠছে।
চালসা রেঞ্জ অফিসের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, শনিবার বেশ কয়েকজন তরুণকে ওই সংরক্ষিত অঞ্চল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বন দপ্তরের তরফে টহলদারি শুরু হয়েছে। এছাড়া কেউ যাতে সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ না করে এবং মূর্তি নদীতে নেমে স্নান না করে তার জন্য সচেতনতামূলক বোর্ড লাগানো হবে বলে বন দপ্তর সূত্রে খবর।
পাহাড়ে বৃষ্টিপাতের জন্য অনেকটাই জল বেড়েছে মূর্তির। প্রশাসনের তরফে নদীতে নেমে স্নান না করার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের এই নির্দেশকে অমান্য করে মূর্তি নদীতে চলছে স্নান। যে কোনও সময় হড়পা নেমে এলে মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
গত কয়েকদিন ধরে একই ছবি ধরা পড়ছে মূর্তিতে। মূর্তির অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে রোজ দূরদূরান্তের বহু পর্যটক এখানে আসেন। ওই তরুণদের আচরণে পর্যটকরাও ক্ষুদ্ধ। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে মূর্তিতে ঘুরতে আসা পর্যটক বিপ্লব কোয়াল বলেন, ‘যেভাবে কিছু তরুণ জঙ্গল ঘেঁষা মূর্তি নদীর চরে বাইক নিয়ে আড্ডা মারছে, তাতে যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’ হড়পার পাশাপাশি সংলগ্ন পানঝোরা জঙ্গল থেকে হাতি বেরোলেও বিপত্তি ঘটার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটকরাও নিয়মিত নজরদারি করার দাবি জানিয়েছেন।
এর আগেও মূর্তি নদীতে স্নান করার সময় তলিয়ে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। সেই ঘটনার যাতে পুরনাবৃত্তি না হয় তার জন্য প্রশাসনের তরফে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে। পরিবেশপ্রেমী সাবুল হক বলেন, ‘জঙ্গলের পাশে মূর্তি নদীর ধারের সংরক্ষিত এলাকায় না যাওয়ার জন্য বরাবর সচেতন করা হয়। পাহাড়ে বৃষ্টির ফলে বর্তমানে মূর্তি নদীর জল অনেকটাই বেড়েছে। কিছু তরুণরা রীতিমতো মূর্তি নদীর ধারে জঙ্গল ঘেঁষা এলাকায় মোটরবাইক নিয়ে আড্ডা মারছে। এই কার্যকলাপ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।’
