উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: একাধিকবার নোটিস পাওয়ার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে সিআইডি (CID) দপ্তরে হাজিরা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সই জাল-কাণ্ডে বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ের রেজোলিউশন সংক্রান্ত মামলায় প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। তবে সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর উত্তরে সন্তুষ্ট নন আধিকারিকরা। সেই কারণেই তাঁকে আগামী ১৪ জুন পুনরায় তলব করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ের রেজোলিউশনে অনুপস্থিত বিধায়কদের সই কে করল, তা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তভার সিআইডির হাতে রয়েছে। সেই সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে অভিষেককে বারবার ‘জানি না’ বা ‘বলব না’ বলতে শোনা গেছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা যখন জানতে চান রেজোলিউশনের কপি কোথায়, তখনও তিনি একই উত্তর দেন। এমনকি, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এই দায় তিনি এড়াতে পারেন না বলে আধিকারিকরা মনে করিয়ে দিলে অভিষেক মেজাজ হারান বলে খবর। এছাড়া স্পিকারের মতো সাংবিধানিক পদাধিকারীকে চিঠি দেওয়ার আগে বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন ছিল—এই প্রসঙ্গ তুললেও তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কালীঘাটের (Kalighat) বাসভবনে পৌঁছান। রাত সাড়ে ১১টার পর সেখানে শুরু হয় বৈঠক, যাতে উপস্থিত ছিলেন মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষ। রাত ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ বৈঠক শেষে সকলেই বেরিয়ে আসেন। তবে এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খোলেননি অভিষেক। তাঁর অনুগামীরা তাঁকে ছাতা দিয়ে ঢেকে দ্রুত গাড়িতে তুলে দেন। কুণাল ঘোষকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কেবল জানান, “এটি তদন্ত সাপেক্ষ বিষয়, এই মুহূর্তে আমরা কোনো মন্তব্য করব না।”
তদন্তের স্বার্থে আধিকারিকরা অভিষেকের উত্তরের অসংলগ্নতায় সন্তুষ্ট না হওয়ায় মামলার পরবর্তী মোড় এখন ১৪ জুনের দিকেই তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি।
