পরাগ মজুমদার,মুর্শিদাবাদ: বজ্রবিদ্যুৎ সহ কালবৈশাখীর দাপটে বৃহস্পতিবার বিকেলে কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হলো মুর্শিদাবাদ (Murshidabad)। ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বজ্রপাতে (Lightning) জেলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রাণ হারিয়েছেন(Demise Toll) অন্তত চারজন। শুধু প্রাণহানিই নয়, কান্দি, ভরতপুর ও বেলডাঙ্গা জুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বজ্রপাতের জেরে আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জেলার উত্তর প্রান্তের জঙ্গিপুর মহকুমার নয়াগ্রাম এলাকা থেকে প্রথম আসে বিপত্তির খবর। কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে আচমকা বজ্রপাতে প্রাণ হারান আবুল কাশেম ও আব্দুল রশিদ নামের দুই ব্যক্তি। সেই একই সময়ে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকার সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের বলি হয় সুরাইয়া খাতুন নামের এক কিশোরী। সন্ধ্যায় আরও এক ব্যক্তি, ইব্রাহিম মণ্ডল, জমি থেকে ফেরার পথে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান। ঘটনার আকস্মিকতায় দিশেহারা গ্রামবাসী ও স্থানীয় প্রশাসন।
মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। কান্দি ভরতপুর ও বেলডাঙ্গা এলাকায় কৃষিজমি ও সবজি চাষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক খবর পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নেমেছে।
এই অকাল দুর্যোগে ফসলের যেমন ক্ষতি হয়েছে, তেমনই মানুষের মৃত্যুতে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে গোটা জেলায়। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন দুর্যোগের সম্ভাবনা থাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাষি ও সাধারণ মানুষকে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাঠে কাজ করার সময় মেঘের গর্জন শুনলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে।
