উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ভোরের নিরবতা ভেঙে কোস্টাল রোডে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলা একটি বিলাসবহুল কালো রঙের বিএমডব্লিউ গাড়ি (Mumbai BMW Accident) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উড়ালপুলের রেলিং ভেঙে সোজা ৭৫ ফুট নীচে আছড়ে পড়ে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিন যুবকের মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও এক আরোহী। রবিবার ভোরে মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভ থেকে হাজি আলির দিকে যাওয়ার সময় লালা লাজপত রাই কলেজের কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ভোর ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ মেরিন ড্রাইভ ঘুরে ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সনয় গুজ্জর (২১), এবং সেটি তাঁর পরিবারেরই ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়িটির গতিবেগ এতটাই বেশি ছিল (প্রায় ২০০ কিমি/ঘণ্টা) যে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। প্রথমে গাড়িটি উড়ালপুলের উপরে থাকা একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা মারে, এবং তার পর রেলিং ভেঙে শূন্যে দু’বার পল্টি খেয়ে প্রায় ৭৫ ফুট নীচে আছড়ে পড়ে। গাড়িটি মুহূর্তে দুমড়েমুচড়ে দলা পাকিয়ে যায়, যার ফলে ভেতরেই আটকে পড়েন চার আরোহী।
দুর্ঘটনার একটি সিসিটিভি বা ড্যাশ ক্যাম ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে, যা দেখে অনেকে একে সিনেমার দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করছেন (যদিও ওই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন)। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারজনকে উদ্ধার করে। চিকিৎসকেরা তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতেরা হলেন সনয় গুজ্জর (২১), আদিত্য জকাসানিয়া (১৯) এবং ধৈর্য শেঠ (১৭)। অন্যদিকে, চালকের পাশের আসনে বসে থাকা আদিত্য ওসবাল গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার শিকার হওয়া চার তরুণই গুজরাতের আমেদাবাদের বাসিন্দা। সনয়, ওসবাল এবং শেঠ—এই তিন জন ভিলে পার্লের একটি ম্যানেজমেন্ট কলেজের ছাত্র ছিলেন এবং তাঁরা সকলেই জুহুর কাছে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন। রবিবার ভোরে মেরিন ড্রাইভ থেকে ফেরার পথেই এই বিপর্যয় ঘটে। কীভাবে এবং ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে মুম্বই পুলিশ।

