উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ দীর্ঘ রোগভোগের পর চিরনিদ্রায় আচ্ছন্ন হলেন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা মুকুল রায় (Mukul Roy)। রবিবার রাত দেড়টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং দলের দীর্ঘসময়ের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজনৈতিক মহলে।
এক নজরে মুকুল রায়ের রাজনৈতিক যাত্রা
- জন্ম: ১৯৫৪ সাল, কাঁচরাপাড়া।
- রাজনীতিতে আসা: রাজনীতিতে হাতেখড়ি জাতীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে। পরে মমতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে ১৯৯৮ সালে তৃণমূলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি।
- সাফল্য: ২০১২ সালে দেশের রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জাহাজ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। ২০০৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ছিলেন রাজ্যসভার সদস্য।
- দলবদল ও জয়: ২০১৭ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে জীবনের প্রথম নির্বাচনী জয় পান এবং বিধায়ক হন। পরবর্তী সময়ে তিনি পুনরায় তৃণমূলে ফিরে আসেন। তবে ২০০১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মুকুল রায় জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী হরিপদ বিশ্বাসের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। বিজেপিতে যোগদানের পরে ২০২১ সালে তিনি কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যানও করা হয়েছিল। তবে দলবদলের জেরে মুকুল রায়ের বিধাকপদ খারিজ করে দেয় উচ্চ আদালত। পরে সেই সিদ্ধান্তের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।
সংগঠক থেকে ‘চাণক্য’
মুকুল রায় পরিচিত ছিলেন তাঁর প্রখর রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি ও সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন জেলা স্তরে দলের ভিত শক্ত করার নেপথ্যে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। আবার বিজেপিতে গিয়েও দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি পদ সামলানোর পাশাপাশি তৃণমূলের বহু হেভিওয়েট নেতাকে গেরুয়া শিবিরে নিয়ে আসার কারিগর ছিলেন তিনিই। শেষ জীবনে পিএসি (PAC) চেয়ারম্যানের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি।
অন্তিম লগ্ন
নারদ ও সারদা কাণ্ডে নাম জড়ানো এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির পর রাজনৈতিক জীবনে অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছেন তিনি। তবে গত কয়েক বছর ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে রাজনীতি থেকে একপ্রকার পর্দার আড়ালে চলে গিয়েছিলেন। পুত্র শুভ্রাংশু রায় জানান, গভীর রাতে বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
রাজ্য রাজনীতির ইতিহাসের পাতায় এক কুশলী কারিগর হিসেবে মুকুল রায়ের নাম অমলিন থাকবে। তাঁর প্রয়াণে একজন দক্ষ রণকৌশলীকে হারালো বাংলা।
