তেহরান: ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সেই দেশ। তেহরানে জড়ো হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এই পরিস্থিতিতে বাবার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে সেদেশের সর্বোচ্চ নেতার পুত্র মুজতবা খামেনেইয়ের (Mojtaba Khamenei) উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন। ভারতে নিযুক্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আয়াতোল্লা হাকিম এলাহির দাবি, তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মুজতবা খামেনেইয়ের জনসমক্ষে আসার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
এই বিষয়ে সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আয়াতোল্লা হাকিম এলাহি জানান, মুজতবা খামেনেই নিজে জনসমক্ষে আসতে এবং শোকাতুর মানুষের সাথে দেখা করতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে অনুমতি দেননি। এলাহির কথায়, “আমি গত সপ্তাহে ইরানে ছিলাম। সেখানকার বন্ধুদের কাছে শুনেছি, তিনি মানুষের মাঝে আসতে চেয়েছেন। কিন্তু তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই মনে হচ্ছে, তিনি শেষকৃত্যে জনসমক্ষে আসবেন না।”
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বর্তমান উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সামরিক সংঘাতের জেরেই এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি ইসরায়েলের নতুন সামরিক পদক্ষেপের হুমকির প্রেক্ষিতে ইরান সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে আয়াতোল্লা হাকিম এলাহি বলেন, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ইরানিরা যেন নিজেদের ‘আত্মা’ হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি বলেন, “এটি তাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তারা মনে করছেন, খামেনেইয়ের শূন্যস্থান পূরণ হওয়ার নয়।”
তবে দেশের সামরিক শক্তির ওপর আস্থা রেখে তিনি আরও যোগ করেন, “অনেক দেশই সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরানের সাহসিকতার প্রশংসা করেছে। ইরান বর্তমানে আগের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী এবং যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত।”
বর্তমানে তেহরানের (Tehran) উদ্দেশ্যে যাত্রা করার সময় এলাহি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ খামেনেইয়ের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণের অঙ্গীকার নিয়ে সমবেত হচ্ছেন।

