উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় দলের দরজা কি তবে মহম্মদ সামির (Mohammed Shami) জন্য চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল? ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করা সত্ত্বেও ভারতীয় দলের নির্বাচকদের নজরে আসছেন না এই অভিজ্ঞ পেসার। জসপ্রীত বুমরাহের মতো তারকাদের চোটের সমস্যা এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেলেও, নির্বাচকদের কোনোও বৈঠকে সামির নাম নিয়ে আলোচনার গুঞ্জন নেই। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে এবার অভিজ্ঞ পেসারের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন ভারতের প্রাক্তন তারকা পেসার জাহির খান (Zaheer Khan)।
হতাশ না হয়ে কঠিন এই সময়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জাহির। তাঁর মতে, সামির সম্পূর্ণ ফোকাস থাকা উচিত নিজের পারফরম্যান্সের ওপর। জাহিরের স্পষ্ট বক্তব্য, দল বা ম্যানেজমেন্ট কী ভাবছে, তা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে নিজের শক্তির ওপর ভরসা রাখাই শ্রেয়।
এই প্রসঙ্গে জাহির বলেন, “সামনে কীভাবে এগোবে, সেটা সম্পূর্ণ তোমার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তুমি যদি নিয়মিত ম্যাচ খেলো এবং ভালো পারফর্ম করো, তবে তুমি সব সময় দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য প্রস্তুত। দলের থিঙ্ক-ট্যাঙ্কের ভাবনা আলাদা হতেই পারে, কিন্তু তোমার হাতে যা আছে সেটাই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।”
গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট দলে সুযোগ না পাওয়ার পর প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর (Ajit Agarkar) দাবি করেছিলেন যে সামি পুরোপুরি ফিট নন। এর বিপরীতে বাংলার হয়ে মাঠে নেমে সামি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে ফিটনেস ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার দায়িত্ব তাঁর নয়। এই ঘটনার পর থেকেই মূলত জাতীয় দলের বৃত্তের বাইরে চলে যান তিনি। নির্বাচকদের সঙ্গে এই ঠান্ডা লড়াইয়ের জেরেই কি সামিকে দলে ব্রাত্য রাখা হচ্ছে? ভারতীয় ক্রিকেট মহলে এই প্রশ্নই এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে।
তবে জাহিরের সাফ কথা, এই সমস্ত বাহ্যিক বিষয় নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করা সামির উচিত নয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন দুর্দান্ত পারফর্ম করে যাওয়া দরকার, যাতে নির্বাচকরা তাঁকে দলে ফেরাতে বাধ্য হন।
বর্তমান ভারতীয় দলে চোট-আঘাতের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। জসপ্রীত বুমরাহ থেকে শুরু করে রোহিত শর্মা, হার্দিক পাণ্ডিয়া, ওয়াশিংটন সুন্দর ও বি সাই সুদর্শনের মতো তারকারা ফিটনেস নিয়ে বারবার ভুগছেন।
চোট-আঘাতকে খেলার স্বাভাবিক অঙ্গ হিসেবেই দেখছেন জাহির খান। তাঁর মতে, প্রতিটি খেলোয়াড়ের কেরিয়ারেই এই পর্যায়টি আসে। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে যতই আলোচনা হোক না কেন, বর্তমান টুর্নামেন্টের ব্যস্ত সূচিটাও মাথায় রাখা প্রয়োজন। যতক্ষণ না মূল সমস্যা বা চোটের আসল কারণ চিহ্নিত করা যাচ্ছে, ততক্ষণ সঠিক সমাধানের পথে এগোনো অসম্ভব।
সব মিলিয়ে জাহিরের বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট—বাইরের সমালোচনার তোয়াক্কা না করে সামির একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত মাঠে নেমে নিজের সেরাটা দেওয়া এবং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নির্বাচকদের জবাব দেওয়া।

