কালিয়াগঞ্জ: কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায়কে নিয়ে বেশ সরগরম রয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলার রাজনীতি। কারণ বিধায়ককে এলাকায় দেখা যায় না বলে অভিযোগ বিরোধীদের। শুধু তাই নয়, একই অভিযোগ বিজেপির অভ্যন্তরেও।
২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে জিতে বিধায়ক হন সৌমেন রায়। এর ছয় মাসের মধ্যে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে ফের বিজেপিতে ফিরে আসেন ফালাকাটা নিবাসী কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায়। এরপর রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী কার্তিকচন্দ্র পালের হয়ে নিজের বিধানসভা এলাকার নির্বাচনি কার্যালয়ে এসে দলীয় কর্মীদের হাতে হেনস্তার শিকার হন সৌমেন। তারপর কালিয়াগঞ্জ থেকে তিনি কার্যত কর্পূরের মতো উধাও। আকাশে উল্কাপাতের মতো মাঝেমধ্যে কালিয়াগঞ্জে অনেকে বিধায়ককে দেখেছেন ঠিকই। কিন্তু তাঁর দলেরই একাংশের অভিমত, সেইভাবে মানুষের পাশে তাঁকে থাকতে দেখা যায়নি।
কালিয়াগঞ্জের বিজেপির প্রাক্তন জেলা পরিষদের সদস্য কমল সরকারের বক্তব্য, ‘বিজেপি বিধায়ক সৌমেন রায়ের কালিয়াগঞ্জের জনসাধারণের প্রতি একটা বিমাতৃসুলভ ভাবধারা রয়েছে। ওঁকে এলাকার মানুষ সচরাচর দেখতে পান না। এর জন্যই বিরোধীরা অভিযোগ তোলার সুযোগ পাচ্ছেন। ওঁকে কলকাতায় শুভেন্দু অধিকারীর পেছনেই বেশি দেখা যায়। এছাড়াও ওঁর বারবার দলবদলের জন্য আখেরে বিজেপির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে৷ বুথ স্তরের কর্মীরা ওঁর উপর যথেষ্ট ক্ষুব্ধ।’
একধাপ এগিয়ে সিপিএমের তরফে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার লাগানো হয়েছে। পোস্টারে প্রচলিত বাংলা ব্যান্ডের গানের লাইন দেখা গিয়েছে। ‘তোমার দেখা নাই রে, তোমার দেখা নাই’।
বুধবার রাতে শহরের মহেন্দ্রগঞ্জ বাজার এলাকা, হাসপাতাল মোড়, বিডিও অফিসের আশপাশে নিখোঁজ বিধায়কের বিরুদ্ধে পোস্টার লাগাল সিপিএমের উত্তর এরিয়া কমিটি। সিপিএম নেতা সুজয় সাহা অভিযোগ করে বললেন, ‘কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক উন্নয়নের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করেননি। ছাত্রছাত্রীরা তাদের বিভিন্ন দরকারে বিধায়কের সইয়ের জন্য হয়রানির শিকার হচ্ছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে দেখা নেই এলাকার বিধায়কের। উনি এতবার দলবদল করেছেন যে, আমরা বুঝতেই পারছি না উনি এখন কোন দলে রয়েছেন।’
এনিয়ে বিধায়ক সৌমেন রায় বলেন, ‘সিপিএম আবার বাংলায় আছে নাকি? ওদের তো খুঁজেই পাওয়া যায় না। কিছু রক্তবীজ বাংলার কিছু জায়গায় আছে বাংলার ভবিষ্যৎ নষ্ট করার জন্য। সাতদিন আগে আমি কালিয়াগঞ্জে গিয়ে দলের সাংগঠনিক কাজকর্ম করে এলাম৷ কালিয়াগঞ্জে আমার অফিস প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি খোলা থাকে জনসাধারণকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য। দলের সংগঠনিক কার্যক্রম গোপন রাখতে সাংবাদিকদের না জানিয়েই কাজ করতে হয়৷ ২৭ ডিসেম্বর আমি আবার কালিয়াগঞ্জে যাব।’
তবে, বিধায়কের নিখোঁজ পোস্টারে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সম্ভাবনা দেখছেন কালিয়াগঞ্জ তৃণমূলের ব্লক সভাপতি নিতাই বৈশ্য। তাঁর কথায়, ‘সৌমেন যাতে কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা আসনে আর টিকিট না পায় তারজন্য বিজেপির আরেক গোষ্ঠী সিপিএমের নাম দিয়ে রাতেরবেলায় এমন পোস্টার লাগিয়েছে। এতে আখেরে তৃণমূলেরই লাভ হচ্ছে।’
