উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: কনভয় সংস্কৃতি ও বিলাসবহুল সরকারি গাড়ির মোহ ত্যাগ করে বুধবার সাইকেল চালিয়ে (Cycle Tradition) বিধানসভায় উপস্থিত হলেন রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ (Minister Indranil Khan)। নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম থেকে সাইকেলে চেপে তাঁর বিধানসভায় প্রবেশের ছবি ও ভিডিও মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছে নেটপাড়ায়। জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিতেই মন্ত্রীর এই উদ্যোগ, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা।
বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ জানান, নিত্যদিনের অল্প দূরত্বের যাতায়াতের জন্য চারচাকার বদলে সাইকেলের ব্যবহার বাড়ালে বিপুল পরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব। পাশাপাশি, শারীরিক সুস্থতা ও ফিটনেস বজায় রাখতেও সাইকেল চালানোর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন। মন্ত্রীর কথায়, আধুনিক যুগেও সাইকেলের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
নেতাদের সাইকেল চড়ার ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। ২০২১ সালে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বেচারাম মান্নাকে সাইকেলে চেপে বিধানসভায় দেখা গিয়েছিল। এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হর্ষ বর্ধনও সাইকেলে চড়ে দপ্তরে পৌঁছে নজির গড়েছিলেন। শুধু ভারত নয়, জো বাইডেন, ভ্লাদিমির পুতিন, বরিস জনসনসহ বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রনেতাদেরও সাইকেল চালাতে দেখা যায়। এমনকি, অভিনেতা সুদীপ মুখোপাধ্যায়ও শহরের যানজট এড়াতে ও জ্বালানি সাশ্রয়ে নিয়মিত সাইকেল ব্যবহার করেন।
মন্ত্রী-বিধায়কদের এই উদ্যোগ প্রশংসিত হলেও, সাধারণ সাইকেল আরোহীরা শহরের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ‘কলকাতা সাইকেল সমাজ’-এর সদস্য বিশ্বজিৎ সরকার ও সাইকেল নেটওয়ার্ক গ্রো (CNG)-এর প্রতিষ্ঠাতা আশিস বাজাজ জানান, কলকাতায় বহু রাস্তায় সাইকেল চালানোয় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং জরিমানা গুনতে হয় আরোহীদের। নতুন রাস্তা বা উড়ালপুল তৈরির সময় সাইকেল আরোহীদের কথা মাথায় রাখা হয় না। তাঁদের দাবি, ইউরোপের দেশগুলোর মতো কলকাতাতেও সাইকেল চালানোর জন্য পৃথক ও নিরাপদ রাস্তার ব্যবস্থা করা হোক।
তীব্র যানজট ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সাইকেল যে অন্যতম সেরা হাতিয়ার, তা আজ প্রমাণিত। তবে কেবল মন্ত্রী বা বিধায়কদের লোক দেখানো উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন শহরের রাস্তাঘাটকে সাইকেল-বান্ধব করে তোলা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা এটাই এখন সচেতন মহলের দাবি।

